Dhaka ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

কম্বোডিয়ায় জিম্মি ও নির্যাতনের শিকার দুই বাংলাদেশি, মুক্তিপণের পর দেশে ফেরা; পাচারচক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি হওয়া দুই বাংলাদেশি তরুণ দীর্ঘ নির্যাতন ও বন্দিদশার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন। এই মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ভুক্তভোগীদের মুক্তির জন্য পরিবারকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ গুনতে হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সিআইডির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬)। তারা দুজনই গাজীপুরের পূবাইল থানার বাসিন্দা। গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে সিআইডির একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী দুই তরুণ কম্বোডিয়ায় যাওয়ার আগে প্রত্যেকের পরিবার প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করেছিল। বিদেশে ভালো কাজের আশায় তারা এই চক্রের ফাঁদে পা দেন। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। স্ক্যাম সেন্টার হলো এমন একটি অপরাধমূলক স্থান, যেখানে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জোরপূর্বক আটকে রেখে অনলাইন প্রতারণা চালানো হয়।

সেখানে তাদের জোর করে অনলাইন প্রতারণায় জড়ানো হতো। কাজ করতে না চাইলে বা কোনো ভুল হলে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। তাদের ইচ্ছেমতো বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ ছিল না। পরে কোনোভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলে স্ক্যাম সেন্টার থেকে পাঁচ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারগুলো সেই টাকা জোগাড় করে সন্তানদের মুক্ত করে।

তবে মুক্তির পরও তাদের ভোগান্তি শেষ হয়নি। চক্রের সদস্যরা আবারও তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং দেশে ফেরার টিকিটের টাকাও পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে। এতে বিদেশে পাঠানোর খরচ, মুক্তিপণ ও ফেরার টিকিট মিলিয়ে পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।

ভুক্তভোগীরা কম্বোডিয়ার একটি হোটেলে প্রায় দুই মাস আটকে ছিলেন। একপর্যায়ে তারা অনলাইনে একটি মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন এবং গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন। কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে বাংলাদেশিদের উদ্ধার ও নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের জুন মাসে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন এবং সেপ্টেম্বরে আরও ৩৮ জন ফিরেছেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কম্বোডিয়ায় জিম্মি ও নির্যাতনের শিকার দুই বাংলাদেশি, মুক্তিপণের পর দেশে ফেরা; পাচারচক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি হওয়া দুই বাংলাদেশি তরুণ দীর্ঘ নির্যাতন ও বন্দিদশার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন। এই মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ভুক্তভোগীদের মুক্তির জন্য পরিবারকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ গুনতে হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সিআইডির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬)। তারা দুজনই গাজীপুরের পূবাইল থানার বাসিন্দা। গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে সিআইডির একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী দুই তরুণ কম্বোডিয়ায় যাওয়ার আগে প্রত্যেকের পরিবার প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করেছিল। বিদেশে ভালো কাজের আশায় তারা এই চক্রের ফাঁদে পা দেন। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। স্ক্যাম সেন্টার হলো এমন একটি অপরাধমূলক স্থান, যেখানে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জোরপূর্বক আটকে রেখে অনলাইন প্রতারণা চালানো হয়।

সেখানে তাদের জোর করে অনলাইন প্রতারণায় জড়ানো হতো। কাজ করতে না চাইলে বা কোনো ভুল হলে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। তাদের ইচ্ছেমতো বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ ছিল না। পরে কোনোভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলে স্ক্যাম সেন্টার থেকে পাঁচ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারগুলো সেই টাকা জোগাড় করে সন্তানদের মুক্ত করে।

তবে মুক্তির পরও তাদের ভোগান্তি শেষ হয়নি। চক্রের সদস্যরা আবারও তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং দেশে ফেরার টিকিটের টাকাও পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে। এতে বিদেশে পাঠানোর খরচ, মুক্তিপণ ও ফেরার টিকিট মিলিয়ে পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।

ভুক্তভোগীরা কম্বোডিয়ার একটি হোটেলে প্রায় দুই মাস আটকে ছিলেন। একপর্যায়ে তারা অনলাইনে একটি মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন এবং গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন। কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে বাংলাদেশিদের উদ্ধার ও নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের জুন মাসে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন এবং সেপ্টেম্বরে আরও ৩৮ জন ফিরেছেন।