Dhaka ০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অত্যন্ত কার্যকর যৌথ মানবিক উদ্যোগে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে পড়া ও বন্দি অবস্থায় থাকা ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সফলতা ও নিরাপত্তার সাথে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালের দিকে লিবিয়ার বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘বুরাক এয়ার’-এর একটি বিশেষ নির্ধারিত চার্টার্ড ফ্লাইটে করে এসব নাগরিক ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়, আজ সকালে দেশে ফেরত আসা এসব অভিবাসীদের মধ্যে অন্তত ৩৬ জন নাগরিক ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ উপায়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে লিবীয় উপকূলরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে তাঁদের ত্রিপোলির কুখ্যাত ‘তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার’-এর অভ্যন্তরে বন্দি হিসেবে রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে, বাকি ১৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ত্রিপোলি ও এর আশপাশের চরম ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীন এবং অনিশ্চিত পরিবেশ থেকে নিষ্কৃতি পেতে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আবেদন জানান। দেশে ফিরে আসা সার্বিক ১৭৪ জন অভিবাসীর মধ্যে অন্তত ৪১ জন ব্যক্তি নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ঠিক আগে ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষারত এসব নাগরিকদের সাথে সরাসরি সশরীরে সাক্ষাৎ করেন লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। উক্ত সাক্ষাৎকালে দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর এবং প্রথম শ্রম সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দূতাবাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, চলমান এই মানবিক প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) লিবিয়ার মিসরাতা শহর থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক আরও ১৭৫ জন আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিককে একই মানবিক সহায়তার আওতায় সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসনকালে বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসনের মারাত্মক সব ঝুঁকি, ভয়াবহতা এবং করুণ পরিণতি সম্পর্কে গভীরভাবে সতর্ক করে দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ উপায়ে বিদেশ গমনের ফলে সাধারণ মানুষকে চরম শারীরিক, মানসিক ও অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়, যা ব্যক্তিগত জীবনের বাইরেও তাঁর পরিবার এবং সার্বিক সমাজব্যবস্থার ওপর এক সুদূরপ্রসারী চরম বিরূপ প্রভাব ফেলে।”

পরিশেষে তিনি দেশে ফিরে আসা সকল বাংলাদেশিকে নতুন উদ্যমে নিজ দেশে কাজ শুরু করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে বিদেশে গমনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি বৈধ ও আইনি পথ অনুসরণের কঠোর পরম পরামর্শ দেন।

এর পাশাপাশি মারাত্মক এই অবৈধ অভিবাসনের ব্যাপারে নিজ নিজ নিজ গ্রামে ও এলাকায় ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তোলার তাগিদ দেন রাষ্ট্রদূত। একই সাথে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করা আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র ও চিহ্নিত দালালদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে দেশের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

জনপ্রিয়

বিগ ব্যাশে মুস্তাফিজকে বরণ করতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশেষ ‘দ্য ফিজ বে’ গ্যালারি

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অত্যন্ত কার্যকর যৌথ মানবিক উদ্যোগে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে পড়া ও বন্দি অবস্থায় থাকা ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সফলতা ও নিরাপত্তার সাথে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালের দিকে লিবিয়ার বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘বুরাক এয়ার’-এর একটি বিশেষ নির্ধারিত চার্টার্ড ফ্লাইটে করে এসব নাগরিক ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়, আজ সকালে দেশে ফেরত আসা এসব অভিবাসীদের মধ্যে অন্তত ৩৬ জন নাগরিক ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ উপায়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে লিবীয় উপকূলরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে তাঁদের ত্রিপোলির কুখ্যাত ‘তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার’-এর অভ্যন্তরে বন্দি হিসেবে রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে, বাকি ১৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ত্রিপোলি ও এর আশপাশের চরম ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীন এবং অনিশ্চিত পরিবেশ থেকে নিষ্কৃতি পেতে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আবেদন জানান। দেশে ফিরে আসা সার্বিক ১৭৪ জন অভিবাসীর মধ্যে অন্তত ৪১ জন ব্যক্তি নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ঠিক আগে ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষারত এসব নাগরিকদের সাথে সরাসরি সশরীরে সাক্ষাৎ করেন লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। উক্ত সাক্ষাৎকালে দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর এবং প্রথম শ্রম সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দূতাবাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, চলমান এই মানবিক প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) লিবিয়ার মিসরাতা শহর থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক আরও ১৭৫ জন আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিককে একই মানবিক সহায়তার আওতায় সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসনকালে বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসনের মারাত্মক সব ঝুঁকি, ভয়াবহতা এবং করুণ পরিণতি সম্পর্কে গভীরভাবে সতর্ক করে দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ উপায়ে বিদেশ গমনের ফলে সাধারণ মানুষকে চরম শারীরিক, মানসিক ও অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়, যা ব্যক্তিগত জীবনের বাইরেও তাঁর পরিবার এবং সার্বিক সমাজব্যবস্থার ওপর এক সুদূরপ্রসারী চরম বিরূপ প্রভাব ফেলে।”

পরিশেষে তিনি দেশে ফিরে আসা সকল বাংলাদেশিকে নতুন উদ্যমে নিজ দেশে কাজ শুরু করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে বিদেশে গমনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি বৈধ ও আইনি পথ অনুসরণের কঠোর পরম পরামর্শ দেন।

এর পাশাপাশি মারাত্মক এই অবৈধ অভিবাসনের ব্যাপারে নিজ নিজ নিজ গ্রামে ও এলাকায় ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তোলার তাগিদ দেন রাষ্ট্রদূত। একই সাথে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করা আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র ও চিহ্নিত দালালদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে দেশের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।