বর্তমান ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতাকে যেমন নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে গভীর সংকট ও শঙ্কা। বিশেষ করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবি বা ভিডিও আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া, তা শনাক্ত করা দিন দিন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও অধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
সম্প্রতি ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক অপব্যবহার নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। ‘দ্য মেকিং অব অ্যা মডার্ন স্টার’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রযুক্তিকে তিনি উন্নয়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখলেও, এর অপব্যবহার প্রতিরোধে বর্তমান আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর সীমাবদ্ধতা উদ্বেগজনক। তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই দ্রুত গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা না হলে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
কৃতি শ্যানন ২০১৪ সালে তেলুগু ছবি ‘১ : নেনোক্কাদিনে’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেন। একই বছর ‘হিরোপান্তি’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক করে তিনি ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন। পরবর্তীতে ‘বরেলি কি বরফি’, ‘লুকা ছুপি’, ‘ভেড়িয়া’ এবং ‘তেরিমে আয়সা উলঝা জিয়া’-এর মতো সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে শীর্ষ সারির তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০২১ সালের ‘মিমি’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি ভারতের ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ অর্জন করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি কৃতি একজন সফল উদ্যোক্তাও; তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘ব্লু প্রজাপতি ফিল্মস’, বিউটি ব্র্যান্ড ‘হাইপার’ এবং ফ্যাশন লাইন ‘এমএস টেকেন’ রয়েছে। একজন প্রকৌশলী ও আন্তর্জাতিক তারকা হিসেবে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি সব সময় সোচ্চার।

























