Dhaka ০৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যা সিনহা মিম: ভালো কাজের অপেক্ষায় থাকি, সিন্ডিকেটে বিশ্বাসী নই

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

মডেলিং ও অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের নজরে আসা বিদ্যা সিনহা মিম সময়ের সঙ্গে নিজেকে বড়পর্দায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সাফল্য থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রে অভিনয়—তাঁর পথচলায় রয়েছে নানা অভিজ্ঞতা। প্রতিটি নতুন কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার আকাঙ্ক্ষা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত দিক। সম্প্রতি অভিনয় ও নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

বিদ্যা সিনহা মিম জানান, তিনি সব সময় ভালো কাজের অপেক্ষায় থাকেন এবং মনের মতো না হলে কাজ করেন না। তিনি এমন কাজ করতে চান, যা দর্শকের মনে জায়গা করে নেবে।

বর্তমান সিনেমার বাজেট বাড়লেও সংখ্যা কমেছে উল্লেখ করে মিম বলেন, আগে প্রচুর সিনেমা হওয়ায় অনেক শিল্পী কাজের সুযোগ পেত। এখন সিনেমা কম হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট সার্কেল বা তথাকথিত সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যাকে অনেকে ‘কমফোর্ট জোন’ বলেন। এখানে পছন্দের মানুষ বা ব্যক্তিগত আর্টিস্টদের নিয়ে কাজ করা হয়। মিম দৃঢ়ভাবে বলেন, তিনি কখনোই এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে ছিলেন না এবং নিজের মতো করে কাজ করেই আজকের অবস্থানে এসেছেন।

চলচ্চিত্রে পথচলাকে প্রতিনিয়ত শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন মিম। তাঁর মতে, প্রতিটি সিনেমায় নতুন গল্প, নতুন চরিত্র এবং নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তিনি চান, তাঁর কাজের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকুক, যাতে দর্শক প্রতিটি নতুন ছবিতে তাঁকে আলাদা রূপে আবিষ্কার করতে পারেন।

বর্তমান নাটকের মান নিয়ে মিম বলেন, এখনকার নাটকগুলোতে আগের মতো পরিবেশ বা আয়োজন দেখা যায় না। একই গল্প চারদিকে, সবাই ভিউ আর ভাইরালের পেছনে ছুটছে। নাটকগুলো যেভাবে নির্মিত হচ্ছে, তাতে অনেক ক্ষেত্রে মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না। তবে তিনি একেবারে ‘না’ বলছেন না; যদি কখনো ভালো বাজেট ও বড় পরিসরের কোনো কাজ আসে এবং সবকিছু যথাযথভাবে হয়, তবে ভবিষ্যতে নাটকে কাজ করার কথা ভেবে দেখা যেতে পারে।

ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন মিম। গ্ল্যামারাস চরিত্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পর্ক, আবেগ, সংগ্রাম কিংবা সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তৈরি গল্পেও অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে। তিনি এমন চরিত্রে কাজ করতে চান, যেগুলো তাঁকে নতুনভাবে প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করবে এবং প্রতিটি নতুন কাজের মাধ্যমে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন। মিম চান, এমন গল্পে কাজ করতে, যা দর্শকের মনে থাকবে। তাঁর মতে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে শেখার কোনো শেষ নেই, তাই নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকাই তাঁর লক্ষ্য।

ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে মিম জানান, তিনি ঘুরতে ভালোবাসেন, তবে বেশির ভাগ সময় কাজের সূত্রেই বাইরে যেতে হয়। কাজের ফাঁকেও তিনি নিজের সময়টা উপভোগ করার চেষ্টা করেন। ঘোরাঘুরির সময় ছবি তুললেও সঙ্গে সঙ্গে পোস্ট না করে বাসায় ফিরে শান্তিতে বসে ছবি আপলোড দেন।

তারকাখ্যাতি দ্রুত হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মিম বলেন, টেলিভিশন নাটকের একসময় প্রচুর দর্শক ছিল। সন্ধ্যার পর পুরো পরিবার একসঙ্গে টিভি সেটের সামনে অপেক্ষায় থাকত। তখনকার কাজের ধরনটাই অন্যরকম ছিল, এখন সবকিছু অনেক দ্রুত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে তারকাখ্যাতি যতটা দ্রুত আসে, ততটা দ্রুত তা হারিয়ে যায়। তিনি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করেন যে, সে সময় মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা আজও তাঁর জন্য রয়ে গেছে।

লেখালেখি প্রসঙ্গে মিম বলেন, এখন আগের মতো গল্প বা বই লেখা হয় না। তবে নিজের ডায়েরি বা দৈনন্দিন জীবনের কিছু কথা মাঝে মাঝে লিখে রাখেন। বই নিয়মিত পড়া হয় এবং বিদেশ গেলে বই কেনা হয়। সময় পেলে আবার হয়তো লিখতে বসে পড়বেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মিম বলেন, তাঁরা তাঁদের ভালো লাগা, প্রত্যাশা ও মতামত জানাতে পারেন। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি কাজের মান ধরে রাখাও জরুরি। তাঁর কাছে অভিনয় এবং দর্শকের আস্থা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি আলভী আহমেদের ‘জীবন অপেরা’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। এই সিনেমায় তাঁর সঙ্গে আছেন শরিফুল রাজ। তবে সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে, তা এখনো জানা যায়নি।

দর্শকের ভালোবাসা একজন শিল্পীর জন্য অনেক বড় প্রেরণা বলে মনে করেন মিম। তাঁদের সমর্থনই নতুন কাজ করার সাহস জোগায়। তিনি চান, দর্শক তাঁর কাজ দেখুক, নিজেদের মতামত জানাক এবং ভালো কাজের পাশে থাকুক।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যা সিনহা মিম: ভালো কাজের অপেক্ষায় থাকি, সিন্ডিকেটে বিশ্বাসী নই

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মডেলিং ও অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের নজরে আসা বিদ্যা সিনহা মিম সময়ের সঙ্গে নিজেকে বড়পর্দায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সাফল্য থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রে অভিনয়—তাঁর পথচলায় রয়েছে নানা অভিজ্ঞতা। প্রতিটি নতুন কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার আকাঙ্ক্ষা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত দিক। সম্প্রতি অভিনয় ও নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

বিদ্যা সিনহা মিম জানান, তিনি সব সময় ভালো কাজের অপেক্ষায় থাকেন এবং মনের মতো না হলে কাজ করেন না। তিনি এমন কাজ করতে চান, যা দর্শকের মনে জায়গা করে নেবে।

বর্তমান সিনেমার বাজেট বাড়লেও সংখ্যা কমেছে উল্লেখ করে মিম বলেন, আগে প্রচুর সিনেমা হওয়ায় অনেক শিল্পী কাজের সুযোগ পেত। এখন সিনেমা কম হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট সার্কেল বা তথাকথিত সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যাকে অনেকে ‘কমফোর্ট জোন’ বলেন। এখানে পছন্দের মানুষ বা ব্যক্তিগত আর্টিস্টদের নিয়ে কাজ করা হয়। মিম দৃঢ়ভাবে বলেন, তিনি কখনোই এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে ছিলেন না এবং নিজের মতো করে কাজ করেই আজকের অবস্থানে এসেছেন।

চলচ্চিত্রে পথচলাকে প্রতিনিয়ত শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন মিম। তাঁর মতে, প্রতিটি সিনেমায় নতুন গল্প, নতুন চরিত্র এবং নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তিনি চান, তাঁর কাজের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকুক, যাতে দর্শক প্রতিটি নতুন ছবিতে তাঁকে আলাদা রূপে আবিষ্কার করতে পারেন।

বর্তমান নাটকের মান নিয়ে মিম বলেন, এখনকার নাটকগুলোতে আগের মতো পরিবেশ বা আয়োজন দেখা যায় না। একই গল্প চারদিকে, সবাই ভিউ আর ভাইরালের পেছনে ছুটছে। নাটকগুলো যেভাবে নির্মিত হচ্ছে, তাতে অনেক ক্ষেত্রে মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না। তবে তিনি একেবারে ‘না’ বলছেন না; যদি কখনো ভালো বাজেট ও বড় পরিসরের কোনো কাজ আসে এবং সবকিছু যথাযথভাবে হয়, তবে ভবিষ্যতে নাটকে কাজ করার কথা ভেবে দেখা যেতে পারে।

ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন মিম। গ্ল্যামারাস চরিত্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পর্ক, আবেগ, সংগ্রাম কিংবা সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তৈরি গল্পেও অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে। তিনি এমন চরিত্রে কাজ করতে চান, যেগুলো তাঁকে নতুনভাবে প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করবে এবং প্রতিটি নতুন কাজের মাধ্যমে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন। মিম চান, এমন গল্পে কাজ করতে, যা দর্শকের মনে থাকবে। তাঁর মতে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে শেখার কোনো শেষ নেই, তাই নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকাই তাঁর লক্ষ্য।

ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে মিম জানান, তিনি ঘুরতে ভালোবাসেন, তবে বেশির ভাগ সময় কাজের সূত্রেই বাইরে যেতে হয়। কাজের ফাঁকেও তিনি নিজের সময়টা উপভোগ করার চেষ্টা করেন। ঘোরাঘুরির সময় ছবি তুললেও সঙ্গে সঙ্গে পোস্ট না করে বাসায় ফিরে শান্তিতে বসে ছবি আপলোড দেন।

তারকাখ্যাতি দ্রুত হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মিম বলেন, টেলিভিশন নাটকের একসময় প্রচুর দর্শক ছিল। সন্ধ্যার পর পুরো পরিবার একসঙ্গে টিভি সেটের সামনে অপেক্ষায় থাকত। তখনকার কাজের ধরনটাই অন্যরকম ছিল, এখন সবকিছু অনেক দ্রুত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে তারকাখ্যাতি যতটা দ্রুত আসে, ততটা দ্রুত তা হারিয়ে যায়। তিনি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করেন যে, সে সময় মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা আজও তাঁর জন্য রয়ে গেছে।

লেখালেখি প্রসঙ্গে মিম বলেন, এখন আগের মতো গল্প বা বই লেখা হয় না। তবে নিজের ডায়েরি বা দৈনন্দিন জীবনের কিছু কথা মাঝে মাঝে লিখে রাখেন। বই নিয়মিত পড়া হয় এবং বিদেশ গেলে বই কেনা হয়। সময় পেলে আবার হয়তো লিখতে বসে পড়বেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মিম বলেন, তাঁরা তাঁদের ভালো লাগা, প্রত্যাশা ও মতামত জানাতে পারেন। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি কাজের মান ধরে রাখাও জরুরি। তাঁর কাছে অভিনয় এবং দর্শকের আস্থা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি আলভী আহমেদের ‘জীবন অপেরা’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। এই সিনেমায় তাঁর সঙ্গে আছেন শরিফুল রাজ। তবে সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে, তা এখনো জানা যায়নি।

দর্শকের ভালোবাসা একজন শিল্পীর জন্য অনেক বড় প্রেরণা বলে মনে করেন মিম। তাঁদের সমর্থনই নতুন কাজ করার সাহস জোগায়। তিনি চান, দর্শক তাঁর কাজ দেখুক, নিজেদের মতামত জানাক এবং ভালো কাজের পাশে থাকুক।