Dhaka ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

দেশে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার ৩০ হাজার কন্যা শিশু: টিআইপি রিপোর্ট

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৯ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার কন্যা শিশু, যাদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়সে এই অন্ধকার জগতে পা রাখতে বাধ্য হচ্ছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) রিপোর্টের বরাতে এই আতঙ্কজনক চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যৌন পেশায় নিয়োজিতদের প্রায় ৪৫ শতাংশই শিশু বয়সে এই পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন। প্রেমের ফাঁদ, চাকরির লোভ কিংবা ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা স্পা সেন্টার ও আবাসিক হোটেলের আড়ালে অবুঝ কন্যা শিশুদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এই জঘন্য পেশায়।

রাজধানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার, হোটেল কিংবা পতিতালয় থেকে প্রায়শই কন্যা শিশু উদ্ধারের খবর গণমাধ্যমে উঠে এলেও এই অন্যায় থামছে না। অপরাধীরা ও পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন জগত এবং পরিচিত স্বজনদের ব্যবহার করে নিত্যনতুন কৌশল তৈরি করছে।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, এই জঘন্য অপরাধের জাল বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রম খাতে বছরে প্রায় ২৩৬ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ মুনাফা তৈরি হয়, যার প্রায় ৭৩ শতাংশই, অর্থাৎ আনুমানিক ১৭২ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা আসে এই বাণিজ্যিক যৌন শোষণ থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ না কমার অন্যতম প্রধান কারণ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া। ঢাকা আহছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা রেশমিন নাহার আশা জানান, আইনের নানা ফাঁকফোকর গলে আসামিরা সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসে, যার ফলে বিচারে চরম বিলম্ব ও বাধা তৈরি হয়।

অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও শিশু অধিকার কর্মী ওয়াহিদা বানু বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করলেও এই শিশুদের সুরক্ষা প্রদান ও পুনর্বাসনে সরকারকেই মূল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

আসামিরা কেন বারবার পার পেয়ে যায়, পুলিশ বলছে, আদালতে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবেই বেশিরভাগ সময় মামলাগুলো টেকানো সম্ভব হয় না। ফলে দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে আসামিরা আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। শিশু অধিকার কর্মীদের মতে, শুধু দু-একটি আলোচিত ঘটনার বিচার করাই যথেষ্ট নয়; বরং কন্যা শিশুদের রক্ষায় বাণিজ্যিক যৌন শোষণের প্রতিটি অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের মূল দাবি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার ৩০ হাজার কন্যা শিশু: টিআইপি রিপোর্ট

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার কন্যা শিশু, যাদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়সে এই অন্ধকার জগতে পা রাখতে বাধ্য হচ্ছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) রিপোর্টের বরাতে এই আতঙ্কজনক চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যৌন পেশায় নিয়োজিতদের প্রায় ৪৫ শতাংশই শিশু বয়সে এই পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন। প্রেমের ফাঁদ, চাকরির লোভ কিংবা ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা স্পা সেন্টার ও আবাসিক হোটেলের আড়ালে অবুঝ কন্যা শিশুদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এই জঘন্য পেশায়।

রাজধানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার, হোটেল কিংবা পতিতালয় থেকে প্রায়শই কন্যা শিশু উদ্ধারের খবর গণমাধ্যমে উঠে এলেও এই অন্যায় থামছে না। অপরাধীরা ও পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন জগত এবং পরিচিত স্বজনদের ব্যবহার করে নিত্যনতুন কৌশল তৈরি করছে।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, এই জঘন্য অপরাধের জাল বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রম খাতে বছরে প্রায় ২৩৬ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ মুনাফা তৈরি হয়, যার প্রায় ৭৩ শতাংশই, অর্থাৎ আনুমানিক ১৭২ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা আসে এই বাণিজ্যিক যৌন শোষণ থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ না কমার অন্যতম প্রধান কারণ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া। ঢাকা আহছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা রেশমিন নাহার আশা জানান, আইনের নানা ফাঁকফোকর গলে আসামিরা সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসে, যার ফলে বিচারে চরম বিলম্ব ও বাধা তৈরি হয়।

অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও শিশু অধিকার কর্মী ওয়াহিদা বানু বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করলেও এই শিশুদের সুরক্ষা প্রদান ও পুনর্বাসনে সরকারকেই মূল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

আসামিরা কেন বারবার পার পেয়ে যায়, পুলিশ বলছে, আদালতে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবেই বেশিরভাগ সময় মামলাগুলো টেকানো সম্ভব হয় না। ফলে দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে আসামিরা আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। শিশু অধিকার কর্মীদের মতে, শুধু দু-একটি আলোচিত ঘটনার বিচার করাই যথেষ্ট নয়; বরং কন্যা শিশুদের রক্ষায় বাণিজ্যিক যৌন শোষণের প্রতিটি অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের মূল দাবি।