যশোর সদর উপজেলায় ইঞ্জিনচালিত একটি করিমন চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতার ধাওয়া ও পরবর্তী সময়ে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই একই ঘটনায় খালে ঝাঁপ দিয়ে বিল্লাল হোসেন নামের আরও এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন এবং গুরুতর জখম অবস্থায় মনিরুজ্জামান নামের অপর একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত মনিরুজ্জামান পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে যশোর সদর উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে মনিরুজ্জামান, মিজানুর রহমান এবং বিল্লাল হোসেন মিলে চান্দুটিয়া গ্রাম থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত করিমন চুরি করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ওই সময় বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। বুঝতে পেরে তাঁরা দ্রুত চান্দুটিয়া স্লুইস খালের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান।
একপর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে মিজানুর রহমান ও বিল্লাল হোসেন খালের পানিতে ঝাঁপ দেন। তবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাড়া করে মনিরুজ্জামান ও মিজানুর রহমানকে ধরে ফেলেন এবং গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুর রহমানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর আহত ব্যক্তি মনিরুজ্জামানকে গুরুতর অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, খালে ঝাঁপ দেওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন বিল্লাল হোসেন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল ও কর্মীরা খালে নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “চুরির অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অপর একজন খালে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধারের লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খালে লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছেন। সুনির্দিষ্টভাবে তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তি পানিতে আছেন নাকি পালিয়ে গেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ছাড়া আহত অবস্থায় একজন যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”


























