বিশাল প্রত্যাশা আর প্রতিশ্রুতি নিয়ে জাপানে আয়োজিত এশিয়ান গেমসে অংশ নিলেও মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো যখন পদকের লড়াইয়ে একের পর এক সাফল্য অর্জন করছে, তখন বাংলাদেশের প্রাপ্তি শুধু হতাশা। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অপ্রতুল প্রস্তুতি এবং দায়িত্বহীনতার কারণে বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমন লজ্জাজনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তা ও সংগঠকদের আগ্রহ দেখা গেলেও ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত উদাসীনতা লক্ষ করা যায়। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে সাফল্য পাওয়া অসম্ভব। এছাড়া ফুটবল ও হকির মতো খেলায় বড় ব্যবধানের পরাজয়, কোচদের সরিয়ে কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কিংবা খেলোয়াড়দের জার্সির মাপ নিয়ে অপেশাদারিত্বের ঘটনা দেশীয় ক্রীড়া প্রশাসনের দৈন্যদশাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে হলে ঢালাওভাবে অংশ না নিয়ে সম্ভাবনাময় ডিসিপ্লিনগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি খরচে কর্মকর্তাদের সফরসঙ্গী হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করে ক্রীড়াবিদ ও কোচদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। শুধু তা-ই নয়, তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনা এবং প্রতিটি ব্যর্থতার সুষ্ঠু জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

























