চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন ও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত নির্মাণকাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকল্পের সুফল পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নবনির্মিত ‘শহীদ আবু সাঈদ গেট’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বার্তা২৪.কম’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী আলোচনায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল চলমান মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের কাজে গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন ও একাডেমিক পরিবেশ ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহি এবং বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিলের সঠিক ও সময়োপযোগী ব্যবহার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
‘শহীদ আবু সাঈদ গেট’ উন্মোচনের তাৎপর্য তুলে ধরে ইউজিসি সদস্য বলেন, এই নবনির্মিত গেট কেবল ইট-পাথরের কোনো ভৌত অবকাঠামো বা সাধারণ প্রবেশদ্বার নয়; বরং এটি এ দেশের ছাত্র-জনতার অধিকার আদায় ও বৈষম্যবিরোধী ঐতিহাসিক আন্দোলনের অবিনশ্বর চেতনার প্রতীক। এই অনমনীয় চেতনাকে ধারণ করেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্বমানের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ইউজিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখা হচ্ছে। উত্তরঞ্চলের এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনসংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন। এ সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


























