পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তরুণীদের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে আব্দুল জলিল (২২) নামের এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল জলিল কুয়াকাটা পৌর এলাকার ইনছান আলীর ছেলে।
পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহিপুর থানার এসআই মাসুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায়। এ সময় হীরা আক্তার নামের এক কিশোরীকে নিয়ে হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় আব্দুল জলিলকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার স্ত্রী মোসা. তামান্নাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, জলিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন এবং পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যেতেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের একাধিক প্রতারণামূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার বাবা আদালতে সাক্ষ্য দেন। প্রাপ্ত অভিযোগ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পরে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় আব্দুল জলিলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক জানান, সরকারি কর্মকর্তা, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা বা প্রতারণা করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।


























