বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম দেশ-বিদেশের সকল শিক্ষককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা হলেন মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের মূল কারিগর।
উপাচার্য তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, একজন আদর্শ শিক্ষক কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দান করেন না, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সততা ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটান। সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য।
শাবিপ্রবির শিক্ষা ও গবেষণার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক সুনাম অর্জন করেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, গবেষণার সুযোগ ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ের সরকারি উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, এমপিও ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে এমপিও সহায়তা শতভাগ মূল বেতনে উন্নীত করা এবং প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। এছাড়া শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর থেকে গুণী শিক্ষক সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে, যার আওতায় শাবিপ্রবির দুই শিক্ষক জাতীয় পর্যায়ে এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রশংসা করে উপাচার্য বলেন, শাবিপ্রবি প্রশাসন শিক্ষকদের মুক্ত পরিবেশে পাঠদান ও গবেষণা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


























