ছোটবেলা থেকেই আমরা প্রায় সবাই গুরুজনদের মুখে শুনে বড় হয়েছি যে আঙুল ফোটালে হাড় ক্ষয় হয়ে যায়। কেউ বলেন জয়েন্টে তরল কমে যাওয়ার কারণে এই শব্দ হয়, আবার কারও মতে হাড়ের ঘর্ষণের ফলে এই আওয়াজ সৃষ্টি হয়। অনেকে এও মনে করেন যে বারবার আঙুল ফোটালে ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্যতা রয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা।
আমাদের শরীরের প্রতিটি সচল জয়েন্ট একটি বিশেষ ক্যাপসুলের ভেতরে সায়োভিয়াল ফ্লুইড বা পিচ্ছিল তরল দ্বারা আবৃত থাকে। এই তরল হাড়ের ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে এবং এর মধ্যে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের মতো গ্যাস দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। যখন আমরা আঙুল বা কোনো জয়েন্ট টেনে হঠাৎ প্রসারিত করি, তখন ভেতরের চাপ দ্রুত কমে যায় এবং সাইনোভিয়াল তরলে দ্রবীভূত গ্যাস মুহূর্তের মধ্যে একটি ছোট গ্যাস বুদবুদ তৈরি করে। এই আকস্মিক বুদবুদ সৃষ্টির মুহূর্তেই মূলত পরিচিত ‘ফট’ বা ‘কট’ শব্দটি শোনা যায়।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, এই শব্দ হাড়ের ঘর্ষণ বা বুদবুদ ফেটে যাওয়ার কারণে হয় না, বরং বুদবুদ তৈরি হওয়ার সময়ই এই আওয়াজ উৎপন্ন হয়। একবার আঙুল ফোটানোর পর সঙ্গে সঙ্গে আবার শব্দ না হওয়ার কারণ হলো, গ্যাস বুদবুদটি পুনরায় তরলে মিশে যেতে কিছুটা সময় নেয়। সাধারণত এই ধরনের স্বাভাবিক জয়েন্টের শব্দ ক্ষতিকর নয়, যদি না এর সঙ্গে তীব্র ব্যথা বা ফোলাভাবের মতো কোনো রোগ লক্ষণ যুক্ত থাকে।


























