সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ায় সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় রাতভর কারফিউ জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে আলাওয়ি অধ্যুষিত এলাকায় প্রাণঘাতী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাতে মঙ্গলবার জানানো হয়, লাতাকিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সিরিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, আটক ব্যক্তিরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা থেকে বুধবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে।
সোমবার রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা লাতাকিয়ার আলাওয়ি সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় বহু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। এর আগের দিন আলাওয়ি সংখ্যালঘুদের বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
এই বিক্ষোভ শুরু হয় মধ্যাঞ্চলীয় শহর হোমসে একটি বোমা হামলার ঘটনার পর। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে গেলে অন্তত তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
এই অস্থিরতা নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সরকারের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর দেশকে স্থিতিশীল করা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে তার প্রশাসন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিরোধী শক্তির একটি জোট দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বাশার আল আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর মধ্য দিয়ে আল আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটে এবং আহমেদ আল শারা ক্ষমতায় আসেন।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও কর্তৃত্ব জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার জানায়, লাতাকিয়া ও তারতুস শহরে সরকারি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা জোরদার এবং নাগরিক ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লাতাকিয়ার একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি আরও বাড়ানো হয়েছে।
উপকূলীয় এই শহরটি আলাওয়ি ও সুন্নি সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে আলাওয়ি সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত মার্চ মাসে উপকূলীয় এলাকায় শত শত আলাওয়ি নিহত হন, যা গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। দামেস্ক বারবার সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলেও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।















