ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে হলে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবেই ফিরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে নগরের তিন পুলের মাথায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দলটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর মন্তব্য করেন। তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এনায়েত বাজার ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর আলী।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত শক্তিকে পুনরায় পুনর্বাসনের একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে। বিগত সময়ে সংঘটিত গুম, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্তদের কোনোভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে তারা দৃঢ় মত প্রকাশ করেন। আবুল হাশেম বক্কর স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন যে, বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে আওয়ামী লীগকে আর কখনো রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে দেশ যখন সাম্য, মানবতা, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থান এ দেশে সহ্য করা হবে না।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেজন্য এলাকাভিত্তিক সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে তৃণমূল পর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইস্কান্দার মির্জা, আবদুল মান্নান, মনজুর আলম মনজু, জিয়া উদ্দিন খালেদ চৌধুরীসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলটির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।


























