বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে একাডেমিয়া ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য। নির্বাচিত বিএনপি সরকারও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি রোববার গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন। ডুয়েটের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) ‘স্টার্টআপ, উদ্ভাবন এবং শিল্প খাতের সঙ্গে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা জোরদার’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে।
অধ্যাপক আল-মামুন জোর দেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে শিল্প খাতের চাহিদার সাথে সংযুক্ত করে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে যুক্ত করা এবং কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গবেষণার ফলাফল যেন কেবল প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা উদ্ভাবন, নমুনা পণ্য তৈরি ও বাণিজ্যিকীকরণের পর্যায়ে নেওয়া প্রয়োজন। এতে নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ সংস্কৃতি বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ইউজিসির নীতিগত সহায়তার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন জানান, যৌথ গবেষণা, গবেষণায় অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে ইউজিসি ও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এ ধরনের সহযোগিতায় ইউজিসির অর্থায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ ও শিক্ষানবিশ কার্যক্রম এবং কার্যকর ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, অতিথি শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তরুণ উদ্যোক্তা ও গবেষকদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে উপযুক্ত অর্থায়ন, পরামর্শ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।


























