২০০৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যের ধনকুবের শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের হাত ধরে ম্যানচেস্টার সিটির মালিকানায় যে রূপকথার অধ্যায় শুরু হয়েছিল, দীর্ঘ আইনি লড়াই ও আর্থিক অনিয়মের রায়ের জেরে তা আজ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত দেড় দশকে পেপ গার্দিওলার জাদুকরী কোচিং এবং বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগে ক্লাবটি ইংল্যান্ডের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপ সেরার মুকুট অর্জন করে এবং ৮টি প্রিমিয়ার লিগসহ মোট ২০টি প্রধান ট্রফি নিজেদের শোকেসে তোলে। তবে এই সোনালী সাফল্যের নেপথ্যে থাকা আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বহু দিন ধরেই সংশয় ছিল, যা এবার প্রিমিয়ার লিগের বিচারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হলো।
২০১৮ সালে জার্মান সাময়িকী ‘ডের স্পিগেল’-এর গোপন নথিপত্র ফাঁসের মাধ্যমে সিটির আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য ১১৪টি গুরুতর নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ এনে দীর্ঘ তদন্ত শুরু করা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল আবুধাবিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশিপ চুক্তির অর্থ কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানো, গোপন পেমেন্টের মাধ্যমে খেলোয়াড় ও কোচদের প্রকৃত বেতন গোপন করা এবং তদন্ত কাজে সহযোগিতা না করা। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগের প্রায় সবকটিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে নজিরবিহীন এক ঘটনা।
চলতি মৌসুমে মাঠের পারফরম্যান্সে সিটি টেবিলের শীর্ষে থাকলেও এই রায়ের ফলে তাদের অতীতের সমস্ত শিরোপা ও অর্জন বাতিলের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর আগে এভারটন বা নটিংহ্যাম ফরেস্টের মতো ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি ভঙ্গের দায়ে পয়েন্ট কেটে নেওয়ার নজির থাকলেও, সিটির বিরুদ্ধে ওঠা দীর্ঘমেয়াদী ও গুরুতর অভিযোগের মাত্রা সেগুলোকে বহুগুণ ছাড়িয়ে গেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যানেলের রায়ে মৃদু ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরাসরি বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এদিকে ক্লাবটির সাবেক মিডফিল্ডার রদ্রি দাবি করেছেন যে, মাঠের কঠোর পরিশ্রম ও নৈপুণ্যের মাধ্যমেই তারা এই সাফল্য অর্জন করেছেন এবং কোনো সিদ্ধান্তই তাদের সেই ইতিহাস ম্লান করতে পারবে না। পুরো বিষয়টি নিয়ে কড়া নজর রাখছে যুক্তরাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিও।

























