রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। তাঁর দাবি, এটি হবে সময়, অর্থ ও প্রশাসনিক সক্ষমতার অপচয়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল জানান, গত রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন আদেশ প্রসঙ্গে দলের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। তিনি বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এমন কোনো আদেশ জারি করার ক্ষমতা নেই। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘আদেশ’ আইনের সমান মর্যাদা বহন করে, তাই তা জারির এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির।”
একপেশে প্রক্রিয়া ও ঐকমত্যের অভাব
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দেয়নি। “এমন একতরফা সুপারিশ জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে,” তিনি বলেন। ফখরুলের মতে, কমিশনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ বাস্তবে পায়নি, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি ‘প্রহসনমূলক ও অর্থহীন’ হয়ে পড়েছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আপত্তি
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদকে একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ঘোষণা করা সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।” তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার শুধু জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কোনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা তাদের দায়িত্ব নয়।
গণভোটের সময় ও যৌক্তিকতা
ফখরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে গণভোট আয়োজন সময় ও অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়।” তাঁর মতে, যদি গণভোট আয়োজনের প্রয়োজন হয়, তা হলে তা জাতীয় নির্বাচনের দিনেই করা যেতে পারে—একই প্রশাসনিক কাঠামো ও ব্যয়ে।
ঐকমত্যভিত্তিক সিদ্ধান্তের বিকৃতি
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত সংস্করণে কিছু দফা দলগুলোর অগোচরে পরিবর্তন করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানানো সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করার বিষয়ে প্রায় সব রাজনৈতিক দল সম্মত হলেও, তা চূড়ান্ত কপিতে রাখা হয়নি। এছাড়া সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধন করা হয়েছে।
“জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা”
সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের সুপারিশগুলো জাতির মধ্যে ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজন সৃষ্টি করবে। মনগড়া সংস্কার প্রয়াস দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। সেই নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের ম্যান্ডেটে গঠিত সরকারই ভবিষ্যৎ সংস্কার নির্ধারণ করবে।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সেলিম রহমান ও সালাউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
















