Dhaka ০৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সুনামগঞ্জে ভেরিফিকেশন জটিলতায় ১২০ মেধাবী শিক্ষকের স্বপ্নভঙ্গ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৪২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও সুনামগঞ্জের ১২০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনএসআই ও ডিএসবি পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলায় শিক্ষা ক্ষেত্রে এমনিতেই নানা অনুন্নত পরিস্থিতি বিরাজমান, যার ওপর ভয়াবহ শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়। এমন সংকটময় মুহূর্তে পুলিশ ভেরিফিকেশনের অজুহাতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত মেধা তালিকার প্রার্থীদের বাদ দেওয়াকে স্থানীয় সচেতন মহল অত্যন্ত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছে।

ভুক্তভোগী তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের আমিরুল হাসান, যিনি ২০২১ সালে এমসি কলেজ থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, নিজের আকুতি প্রকাশ করে বলেন, “চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিগত আট মাস ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিকভাবে ভুগেছি। অবশেষে চূড়ান্ত নিয়োগপত্রে নিজের নাম না দেখে যেন আকাশে কালো মেঘ নেমে এসেছে। আমার কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই, থানাতেও কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেই।”

একই গ্রামের বাসিন্দা মহসিন মিয়া জানান, তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স শেষ করেছেন। পিতামাতাহীন মহসিন টিউশনি করে পরিবার চালান। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার নাম বাদ পড়েছে শুনে তিনি নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না বলে জানান।

শান্তিগঞ্জের ফতেহপুর গ্রামের মেধা তালিকায় থাকা সামন্ত কুমার দাস বলেন, “উপজেলায় মেধা তালিকায় নবম স্থানে ছিলাম। অথচ অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে নিয়োগ তালিকায় আমার নাম অনুপস্থিত। দীর্ঘ আট মাসের প্রতীক্ষা শেষে যোগদানের সকল পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এখন আমি পুরোপুরি ভাষাহীন। আমি কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নই এবং আমার নামে কোনো মামলা-হামলাও নেই।”

বঞ্চিত প্রার্থীরা শনিবার জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং জড়ো হয়ে অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত চালিয়ে তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবি জানান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, জেলায় মোট ৬৩৫ জন শিক্ষক পদের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সুনামগঞ্জে ভেরিফিকেশন জটিলতায় ১২০ মেধাবী শিক্ষকের স্বপ্নভঙ্গ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৪২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও সুনামগঞ্জের ১২০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনএসআই ও ডিএসবি পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলায় শিক্ষা ক্ষেত্রে এমনিতেই নানা অনুন্নত পরিস্থিতি বিরাজমান, যার ওপর ভয়াবহ শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়। এমন সংকটময় মুহূর্তে পুলিশ ভেরিফিকেশনের অজুহাতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত মেধা তালিকার প্রার্থীদের বাদ দেওয়াকে স্থানীয় সচেতন মহল অত্যন্ত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছে।

ভুক্তভোগী তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের আমিরুল হাসান, যিনি ২০২১ সালে এমসি কলেজ থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, নিজের আকুতি প্রকাশ করে বলেন, “চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিগত আট মাস ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিকভাবে ভুগেছি। অবশেষে চূড়ান্ত নিয়োগপত্রে নিজের নাম না দেখে যেন আকাশে কালো মেঘ নেমে এসেছে। আমার কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই, থানাতেও কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেই।”

একই গ্রামের বাসিন্দা মহসিন মিয়া জানান, তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স শেষ করেছেন। পিতামাতাহীন মহসিন টিউশনি করে পরিবার চালান। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার নাম বাদ পড়েছে শুনে তিনি নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না বলে জানান।

শান্তিগঞ্জের ফতেহপুর গ্রামের মেধা তালিকায় থাকা সামন্ত কুমার দাস বলেন, “উপজেলায় মেধা তালিকায় নবম স্থানে ছিলাম। অথচ অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে নিয়োগ তালিকায় আমার নাম অনুপস্থিত। দীর্ঘ আট মাসের প্রতীক্ষা শেষে যোগদানের সকল পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এখন আমি পুরোপুরি ভাষাহীন। আমি কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নই এবং আমার নামে কোনো মামলা-হামলাও নেই।”

বঞ্চিত প্রার্থীরা শনিবার জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং জড়ো হয়ে অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত চালিয়ে তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবি জানান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, জেলায় মোট ৬৩৫ জন শিক্ষক পদের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।