ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ক্ষুব্ধ জনতা মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভেঙে ফেলা হয়। পরে খুলে নেওয়া টিন বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। ভাঙচুরের আগে আসামির পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ স্থানে সরে যান এবং ঘরের মালামালও সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই ভাঙচুর চলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন আকন্দ বলেন, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে চর কালিবাড়ি এলাকায় এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে পাঁচ যুবক গিয়ে তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর কাছে পানি চান। ওই কিশোর পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে যুবকেরা অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করেন এবং একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এরপর যুবকেরা ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের নারী সদস্যকে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। পরে ওই নারীকে তার ছেলের সামনে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চর কালিবাড়ি এলাকার শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুল (২২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের ঘটনাটি অভিযুক্তদের একজন ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।


























