ফুটবল ক্যারিয়ারের বর্ণাঢ্য অর্জনের ঝুড়িতে নতুন আরেকটি অতি মর্যাদাপূর্ণ ও ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি যোগ করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের ওভিয়েদো শহরের ঐতিহাসিক ‘তিয়াত্রো কাম্পোয়ামোর’ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজকন্যা লিওনরের হাত থেকে এককভাবে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার ২০২৬’ গ্রহণ করেছেন তিনি। স্পেনের অন্যতম শীর্ষ এই বেসামরিক সম্মাননার ৪৬ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম কোনো ফুটবলার হিসেবে এককভাবে ক্রীড়া বিভাগে এই সম্মাননা পেয়ে নতুন এক ইতিহাস স্থাপন করলেন ইন্টার মায়ামি তারকা।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আয়োজিত উক্ত আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে, রানি লেতিসিয়া, রাজকুমারী সোফিয়া এবং মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো সহ বহু দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার প্রদানের সময় মেসির বর্ণাঢ্য ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া অবদান ও অসাধারণ দলগত মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্পেনের রাজকন্যা লিওনর। এর আগে গত জুনে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন কর্তৃক মেসিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, যেখানে তাঁর অলৌকিক ফুটবল প্রতিভার পাশাপাশি ‘লিও মেসি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য সামাজিক অবদানের বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
সংবাদ সংস্থা ইএফই-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মেসি জানান, ব্যস্ত সূচির মধ্যেও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার পেছনে তাঁর প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির গভীর ইচ্ছা জড়িয়ে ছিল, যিনি জীবিত থাকাকালীন মেসিকে স্পেনে গিয়ে এই ট্রফিটি গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। পুরস্কার গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়োজক ফাউন্ডেশন ও ভক্তদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেসি জানান, দীর্ঘদিন পর বার্সেলোনার স্মৃতিবিজড়িত স্পেনে ফিরে এসে এমন সম্মান পেয়ে তিনি গভীরভাবে আপ্লুত। উক্ত আন্তর্জাতিক আয়োজনে ফুটবল তারকা মেসির পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতি, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের নানা অঙ্গনের বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকেও আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়।

























