ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সার্বিক আঞ্চলিক সংকট নিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পর্দার অন্তরালে গোপনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার। তবে একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ব্যাপক আকারে আঞ্চলিক যুদ্ধ ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটি। উদ্ভূত বিপর্যয়কর পরিস্থিতি এড়াতে দোহার পক্ষ থেকে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরাম’-এ বক্তব্য প্রদানকালে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি ‘যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’ (জেসিপিওএ) পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নিবিড় ও গোপন আলোচনা চলছে এবং দুটি দেশই অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য না আসাকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও কল্যাণকর লক্ষণ হিসেবে দেখছেন মাজেদ আল-আনসারি। তাঁর ভাষ্যমতে, স্পর্শকাতর সংলাপ ও আলোচনা গোপন থাকার অর্থই হলো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো তাঁদের কূটনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও সঠিকভাবে সম্পাদন করছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমাগত বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার পারদ কমাতে কাতার, ওমান ও পাকিস্তানসহ এই অঞ্চলের একাধিক বন্ধুপ্রতীম দেশ ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বজায় রাখার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার মাধ্যমে এই জটিল সংকটের একটি টেকসই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করাই রাষ্ট্রগুলোর মূল লক্ষ্য, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
অন্যদিকে, যুদ্ধ ও সংঘাতের চরম আশঙ্কার মাঝে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’-র নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই আন্তর্জাতিক নৌপথ ঘিরে ইরান ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর বৈরী মুখোমুখি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কৌশলগত এই প্রণালিতে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেন। এর পাশাপাশি বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত রেখে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে এক যৌথ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানান তিনি।























