২০২৬ সালে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এসব দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬০ কোটি, যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সাধারণ, প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় নির্বাচনগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, অর্থনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব নির্বাচনের ফলাফল শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। নিচে মাসভিত্তিকভাবে ২০২৬ সালের উল্লেখযোগ্য নির্বাচনগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো।
জানুয়ারি মাসে মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপ ১১ জানুয়ারি এবং তৃতীয় ধাপ ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই মাসে ১৫ জানুয়ারি উগান্ডায় সাধারণ নির্বাচন এবং ১৮ জানুয়ারি পর্তুগালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।
ফেব্রুয়ারিতে কোস্টারিকায় ১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন, থাইল্যান্ডে ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। একই সঙ্গে ভোটাররা ‘জুলাই চার্টার’ নামে একটি সংস্কার পরিকল্পনার বিষয়ে মত দেবেন। ফেব্রুয়ারিতেই লাওসে ২২ তারিখে সংসদীয় নির্বাচন হওয়ার কথা।
মার্চে ৫ তারিখ নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৫ সালের গণবিক্ষোভের পর এই নির্বাচনকে দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ১৫ মার্চ ভিয়েতনামে সংসদীয় নির্বাচন, ২২ মার্চ স্লোভেনিয়ায় সম্ভাব্য সংসদীয় নির্বাচন এবং একই দিনে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এপ্রিলে ১২ তারিখ বেনিন ও পেরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে হাঙ্গেরিতে সংসদীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এপ্রিলে লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ছাড়া জিবুতিতে এপ্রিলের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং কেপ ভার্দেতেও সংসদীয় নির্বাচন হতে পারে।
মে মাসে ২৪ মে সাইপ্রাসে সংসদীয় নির্বাচন এবং ৩১ মে কলম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কলম্বিয়ায় এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, কারণ বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মে মাসেই লেবাননে সংসদীয় নির্বাচন হওয়ার কথা, যা দেশটির রাজনৈতিক ভারসাম্য ও হিজবুল্লাহর ভূমিকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ক্যামেরুনেও মে মাসের মধ্যে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
জুনে ইথিওপিয়ায় ১ জুন সাধারণ নির্বাচন, ৭ জুন আর্মেনিয়ায় সংসদীয় নির্বাচন এবং জুনের মধ্যেই আলজেরিয়ায় সংসদীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
জুলাইয়ে ফিজিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে, যা জুন ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে যে কোনো সময়ে আয়োজন করা হতে পারে।
আগস্টে ১৩ আগস্ট জাম্বিয়ায় সাধারণ নির্বাচন এবং ৩০ আগস্ট হাইতিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সেপ্টেম্বরে সুইডেনে ১৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ নির্বাচন, সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপেতে সংসদীয় নির্বাচন এবং মরক্কো ও রাশিয়ায় সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অক্টোবরে ৩ অক্টোবর লাটভিয়ায় সংসদীয় নির্বাচন এবং ৪ অক্টোবর ব্রাজিলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস ও রাজ্য সরকার নির্বাচনের কারণে এই নির্বাচনকে লাতিন আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই মাসে ইসরায়েলে সংসদীয় নির্বাচন হওয়ার আইনি সময়সীমা ২৭ অক্টোবর হলেও আগাম নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডেনমার্ক, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং বাহামাসেও অক্টোবরের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনের ভোট হবে, যা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে। একই মাসে বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ডিসেম্বরে ৫ ডিসেম্বর গাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে নিউজিল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচন এবং ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনী বছর বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রভাব আগামী কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনুভূত হতে পারে।
















