Dhaka ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিশরের

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের সার্বিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করতে মিশর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর। সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি ভূখণ্ডে নিজেদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি করার প্রেক্ষাপটে কায়রো এই ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করল।

উদ্ভূত উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিশরের সর্বাধিনায়ক ও প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি দেশটির জাতীয় পার্লামেন্টের একটি জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এই বিশেষ অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হলো—সৌদি আরব যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে আরব বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও বৃহত্তম সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীকে সৌদি আরবে মোতায়েন কিংবা সহায়তার আইনি অনুমোদন প্রদান করা। উক্ত প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা থাকলেও আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা সময় লাগছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দিনে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সৌদি আরামকো’-র কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চলায়।

মিশরের প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, “ভৌগোলিক দিক থেকে ভাইপ্রতীম দেশ সৌদি আরবের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, তাদের জাতীয় সম্পদ ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষার স্বার্থে মিশর প্রয়োজনীয় ও সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য সুনিশ্চিত করবে।”

মিশরের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়। প্রেসিডেন্ট সিসির সরাসরি সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে এক বিশেষ ভাষণে প্রেসিডেন্ট সিসি উল্লেখ করেন যে, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরামর্শ ও যৌথ রূপরেখা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কায়রো। ইয়েমেন সীমান্তে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর তারা প্রেসিডেন্ট সিসির সাথে এক দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, মিশর ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক অংশীদার। বিশেষ করে ২০১৩ সালে ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অপরাপর অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলো মিশরকে বিলিয়ন ডলারের নগদ আর্থিক সহায়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত ও বিপুল বিনিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে কায়রোর পাশে সুদৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়ে আসছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিশরের

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের সার্বিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করতে মিশর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর। সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি ভূখণ্ডে নিজেদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি করার প্রেক্ষাপটে কায়রো এই ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করল।

উদ্ভূত উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিশরের সর্বাধিনায়ক ও প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি দেশটির জাতীয় পার্লামেন্টের একটি জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এই বিশেষ অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হলো—সৌদি আরব যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে আরব বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও বৃহত্তম সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীকে সৌদি আরবে মোতায়েন কিংবা সহায়তার আইনি অনুমোদন প্রদান করা। উক্ত প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা থাকলেও আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা সময় লাগছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দিনে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সৌদি আরামকো’-র কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চলায়।

মিশরের প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, “ভৌগোলিক দিক থেকে ভাইপ্রতীম দেশ সৌদি আরবের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, তাদের জাতীয় সম্পদ ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষার স্বার্থে মিশর প্রয়োজনীয় ও সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য সুনিশ্চিত করবে।”

মিশরের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়। প্রেসিডেন্ট সিসির সরাসরি সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে এক বিশেষ ভাষণে প্রেসিডেন্ট সিসি উল্লেখ করেন যে, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরামর্শ ও যৌথ রূপরেখা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কায়রো। ইয়েমেন সীমান্তে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর তারা প্রেসিডেন্ট সিসির সাথে এক দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, মিশর ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক অংশীদার। বিশেষ করে ২০১৩ সালে ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অপরাপর অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলো মিশরকে বিলিয়ন ডলারের নগদ আর্থিক সহায়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত ও বিপুল বিনিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে কায়রোর পাশে সুদৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়ে আসছে।