দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি বা বাজার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কৃষকের জীবন ও জীবিকার বিষয়টি সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কৃষক যদি উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য না পান কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঋণের ফাঁদে পড়েন, তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশের পুরো খাদ্যব্যবস্থাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল খাদ্যের পরিমাণ বাড়ালেই সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, বরং এর জন্য কৃষকের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রাক্কালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) নির্ধারিত প্রতিপাদ্য স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন এবং টেকসই কৃষিব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সুফল যদি প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছায় এবং উৎপাদিত পুষ্টিকর খাবার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, তবেই খাদ্য খাতের প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হবে। অন্যথায় চালের জোগান থাকলেও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে জনস্বাস্থ্য ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
খাদ্যনিরাপত্তার বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা যায়, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো মূল্যস্ফীতির চাপে খাদ্যতালিকা থেকে পুষ্টিকর উপাদান বাদ দিতে বাধ্য হয়। তাই কেবল শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টির অধিকার এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচ হ্রাসের স্থায়ী নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।


























