কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন-ইরান উত্তেজনার পারদ চরম আকার ধারণ করেছে। এই জলসীমায় পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইল হামলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সাগরে তলিয়ে গেছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ, যার মধ্যে একটি কনটেইনারবাহী এবং অন্যটি ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে অতীব গুরুত্ববহ এই রুটে গত ১০ দিনে আকস্মিকভাবে সামরিক সংঘাত ও আক্রমণের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। মূলত গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ ও নতুন করে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিলে, তার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও পাল্টা হামলা জোরদার করার ঘোষণা দেয়।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য ও বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রণালি অতিক্রম করার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামক একটি কনটেইনার জাহাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর তীব্র আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে তা সাগরে তলিয়ে যায়। তবে সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবারের ওই হামলায় জাহাজে থাকা ২১ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, গত মাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার ‘কেপ দাও’ দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সাগরে সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। এর আগে চলতি সংঘাতে মাল্টার পতাকাবাহী ‘সাফিন প্রিস্টিজ’ নামের কন্টেইনার জাহাজ প্রজেক্টাইল হামলায় তলিয়ে গিয়েছিল এবং এপ্রিল মাসে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ নামের বিশাল বাণিজ্যিক জাহাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আটক করেছিল।























