দীর্ঘ বৈশ্বিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও অবকাঠামোগত বিলম্বের পর অবশেষে আগামী ১৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সংযোগকারী ঐতিহাসিক ‘ইয়ালু নদী সেতু’। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্যিক ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এই সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সেতুটি সর্বসাধারণ ও পণ্য পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত করা উপলক্ষে চীন ও উত্তর কোরিয়া যৌথভাবে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বৈচিত্র্যময় বাণিজ্যিক যোগাযোগ সুগম করতে ২০১৪ সালেই চীনের অংশের সেতু নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল। তবে উত্তর কোরিয়ার অংশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) এবং কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগের প্রশাসনিক অবকাঠামো নির্মাণ বিলম্বিত হওয়ায় এতদিন সেতুটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার একের পর এক বিতর্কিত পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়া হিসেবে জাতিসংঘের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ায় বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কেও কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়েছিল এই মেগা প্রকল্পে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর এই কৌশলগত নতুন সীমান্ত সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বরফ গলার সুনির্দিষ্ট লক্ষণ মিলছে। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই রাশিয়ার সঙ্গেও নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক সড়ক সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছিল পিয়ংইয়ং।
বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন কড়াকড়ি সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেশ গতি পেয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বছর উত্তর কোরিয়ায় চীনের মোট রপ্তানির পরিমাণ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা বিগত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৫ তারিখে নতুন ইয়ালু নদী সেতুটি পুরোপুরি চালু হলে উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যকার এই সীমান্ত বাণিজ্য আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।























