সন্তানেরা সন্ধ্যার পর কোথায় যায় এবং কাদের সঙ্গে সময় কাটায়—সে বিষয়ে দেশের প্রতিটি অভিভাবককে বিশেষভাবে সতর্ক ও সচেতন থাকার তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেছেন, উদীয়মান তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে আয়োজিত এক বিশাল মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বার্তা২৪.কম’-এর এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
এর আগে কাঞ্চননগরের চুমুরহাট থেকে একটি বর্ণাঢ্য গণর্যালি বের হয়। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রতিবাদী র্যালিটি এলাকার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে কাঞ্চননগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। র্যালিতে দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় হাজারো সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, “ফটিকছড়িকে সম্পূর্ণরূপে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ ফটিকছড়ি গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। ইনশাআল্লাহ, সবার জোরালো সহযোগিতায় অচিরেই ফটিকছড়িকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বুকে ধারণ করে সমাজের সর্বত্র মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এলাকায় কোনো চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারির স্থান হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাঞ্চননগরবাসীর দাবির মুখে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে একাধিক নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
র্যালি ও পরবর্তী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মো. ইব্রাহীম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহির আজম চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহীন, মুনসুর আলম চৌধুরী, কাসেম চেয়ারম্যান, কাতেব চেয়ারম্যান, হান্নান চৌধুরী, মোজাম্মেল হক, শফিউল আজম, নাছির উদ্দীন, হাসানুল কবির, মোজাহারুল ইকবাল লাভলু, ইসমাইল হোসেন, মো. কাদের, সাহাব উদ্দিন ও সাজিদুলসহ অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে সক্রিয় সংহতি জানান।


























