কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মোস্তফা সিকদারের বসতভিটায় গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে তীব্র বেগে বেরিয়ে আসা গ্যাসে লাগা আগুন চার দিন ধরে অব্যাহতভাবে জ্বলছে। সময়ের সাথে সাথে আগুনের তীব্রতা এবং নলকূপের মুখের ব্যাস বৃদ্ধি পাায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভূগর্ভের সংশ্লিষ্ট স্তরে থাকা গ্যাসের প্রাক্কলিত প্রাকৃতিক সঞ্চয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আগুন অনবরত জ্বলতে থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানান, কোনো প্রকার যান্ত্রিক বা কৃত্রিম উপায়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলে গ্যাস ভিন্ন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে অন্য পথে ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ফলশ্রুত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অগ্নিকাণ্ডস্থলের চারপাশের ২০০ থেকে ২৫০ বর্গমিটার এলাকা সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের উৎসস্থলের ঠিক পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারে আগুনের লেশিখা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বিবেচনা করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩৩ কেভি লাইনের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকার সংযোগ কেটে দিয়েছে; এতে পার্শ্ববর্তী প্রায় ৪৫টি রিসোর্ট, হোটেল এবং ৮ থেকে ৯ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
অন্যদিকে টানা চার দিন ধরে অনবরত গ্যাস উদগীরণ ও প্রবল বেগে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয় অধিবাসীদের অনেকে ওই এলাকায় বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক গ্যাস বা খনিজ সম্পদের বিপুল মজুত থাকার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দল এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অগ্নিকাণ্ড সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার পর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষেই কেবল খনিজ সম্পদের সঠিক তথ্য জানা সম্ভব বলে নিশ্চিত করেছেন।


























