দক্ষিণ জনপদের সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল জনপদ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ্য মাদকের একটি বড় চালান আত্মসাত করার গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘটিত এক পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুরো অঞ্চলে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অবৈধ ইয়াবার চালান আত্মসাতের জেরে সংঘটিত বিরোধের জের ধরে চারজন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে একটি গোপন পাহাড়ি আস্তানায় নির্মমভাবে আটকে রেখে পৈশাচিক কায়দায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্বরোচিত এই নির্যাতনে মোক্তার কামাল নামের এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় গুরুতর জখম ও আহত অবস্থায় আরও দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, তাঁদের সঙ্গে থাকা অপর একজন ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে উদ্ধারকৃতদের একজন নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সীমান্তবর্তী টেকনাফ অঞ্চলের মাদক চোরাকারবারী চক্রের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং মাদক কারবারের বিশাল লভ্যাংশ বা চালান নিজেদের কব্জায় নেওয়ার লোভ থেকেই মূলত এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। অপরাধজগতের সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ বিরোধের শিকার হয়ে মোক্তার কামাল নামের ওই ব্যক্তি নিজের জীবন হারালেন, যা এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ রূপকে আবারও উন্মোচন করেছে।
গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ এলাকার বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি ঢাল ও গহীন অরণ্য দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারিদের নিরাপদ আস্তানা এবং অপরাধের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে আসা ইয়াবার একটি বড় ও মূল্যবান চালান হাতবদল হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অপরাধী চক্রের দুটি গ্রুপের মধ্যে মারাত্মক অসন্তোষ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। একপক্ষের বিরুদ্ধে ইয়াবার চালানটি সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলার পরই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
উক্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ চক্রের সশস্ত্র সদস্যরা অত্যন্ত সুকৌশলে মোক্তার কামালসহ মোট চারজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে টেকনাফের গহীন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত তাদের গোপন আস্তানায় অবরুদ্ধ করে রাখে। এরপর সেখানে চলাকালীন সময়ে তাঁদের ওপর চালানো হয় পৈশাচিক ও অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। হাত-পা বেঁধে বেধড়ক পিটুনি ও জিঘাংসামূলক এই নির্যাতনে মোক্তার কামাল মারাত্মক জখম হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক সহ্যক্ষমতা হারিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পরবর্তীতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিশেষ তৎপরতা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ওই পাহাড়ি এলাকা থেকে মুমূর্ষু ও রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজন গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছেন যে, তাঁদের এই চারজনের দলের সঙ্গে থাকা অপর একজন ব্যক্তি ঘটনার পর থেকেই সম্পূর্ণ নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড়ি গহীনে বা অন্য কোনো স্থানে তাঁকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে কিংবা তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার অত্যন্ত গুরুত্ব উপলব্ধি করে টেকনাফ থানার পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে ওই পাহাড়ি অঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার এবং এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মূল অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এ ধরনের মাদকের আন্তঃকোন্দল ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী।


























