বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে বাঙালি বনাম মুসলমান কিংবা একাত্তর বনাম ইসলামের মতো কৃত্রিম বিভাজন তৈরি করে রাখা হয়েছে। অথচ দেশের নাগরিকেরা একই সঙ্গে নিজেদের ধর্মীয় ও জাতীয় পরিচয় ধারণ করতে পারেন। জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ভেঙে একটি নতুন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ইতিহাসকে কোনো নির্দিষ্ট দলের রাজনৈতিক সম্পত্তিতে পরিণত করা এবং ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক থেকে স্বৈরতান্ত্রিক করে তোলে। জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারের ছিল না, বরং এটি ছিল রাষ্ট্রে নাগরিক মর্যাদা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লড়াই। এই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, দেশের শাসনব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তি পরিবর্তন করা জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে ‘বাংলাদেশপন্থা’ নামক একটি নতুন রাষ্ট্রদর্শনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো—ইসলামি নৈতিকতা ও ইনসাফ, আধুনিক গণতন্ত্র ও সুশাসন, বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা। এই সমন্বিত চিন্তার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন এবং জাতীয় পুনর্মিলন নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।


























