আইনগতভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলকে দেশের কোথাও কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, আসন্ন ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা বা অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ সজাগ ও তৎপর রয়েছে। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান এই কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী বা আইনবিরোধী কোনো রাজনৈতিক দলকে কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা মহানগর এলাকায় যারা বসবাস করেন, তাদের প্রত্যেকের জীবন ও সম্পত্তির পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম প্রধান ও পবিত্র দায়িত্ব। এই গুরুদায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ সবসময় সচেষ্ট ও সতর্ক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার অপতৎপরতা কঠোর হাতে রুখে দেওয়া হবে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার সম্ভাব্য গুঞ্জন এবং এ নিয়ে কোনো নিষিদ্ধ দলের গোপন কর্মসূচি বা নাশকতার আশঙ্কার বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে, আইন বা আদালতের আদেশের মাধ্যমে যেসব কর্মকাণ্ড বা সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে চালাতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, যাদের রাজনৈতিক বা অন্যান্য কার্যক্রম আইন দ্বারা পুরোপুরি বারিত করা হয়েছে, এ ধরনের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ পুরো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অপচেষ্টা রোধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীরা যাতে কোনো ধরনের গোপন বৈঠক, মিছিল বা বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সেজন্য দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীতে গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।


























