সৌদি আরবের বাণিজ্যিক রাজধানী জেদ্দায় একটি বহুতল ভবনে সংঘটিত আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওবায়দুল বেপারী (২৩) ও মহিউল ইসলাম পলাশ (৪৫) নামের দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে জেদ্দা শহরের তামানিন আখের এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওবায়দুল বেপারী ঢাকার দোহার উপজেলার উত্তর শিমুলিয়া এলাকার হারুন বেপারীর পুত্র এবং মহিউল ইসলাম পলাশ একই এলাকার রহিম খালাসীর পুত্র বলে জানা গেছে। জীবিকার সন্ধানে তারা উভয়ই প্রায় দুই বছর পূর্বে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং সেখানে যথাক্রমে নির্মাণশ্রমিক ও পাইপ ফিটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার জেদ্দার তামানিন আখের এলাকার একটি বহুতল আবাসিক ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি রেস্টুরেন্টে হঠাৎ করেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। দুর্ঘটনার সময় নিহত পলাশ ও ওবায়দুল উভয়েই ওই ভবনটির ভেতরে অবস্থান করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় তাঁরা ভবন থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি। পরবর্তীতে খবর পেয়ে স্থানীয় দমকল বাহিনীর কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরবর্তীতে ভবনটির ভেতর থেকে পুঞ্জীভূত ধোঁয়া ও অগ্নিদগ্ধ অবস্থা থেকে পলাশ ও ওবায়দুলের মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার দিন বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে নিহতদের স্বজনেরা প্রবাসে থাকা অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন।
নিহত ওবায়দুলের বড় ভাই হিরন বেপারী গণমাধ্যমকে জানান যে, ওই বহুতল ভবন থেকে সৌভাগ্যবশত বেঁচে যাওয়া অন্য ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের মাধ্যমেই তাঁরা ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছেন। তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে জেদ্দার একটি স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে নিহত উভয় প্রবাসীর মরদেহ সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় নিহতদের নিজ এলাকা দোহারের উত্তর শিমুলিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পরিবারগুলোতে চলছে মাতম। বৈদেশিক কর্মসংস্থানে গিয়ে এমন আকস্মিক প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটির মাঝেও গভীর শোক ও হতাশা বিরাজ করছে।


























