আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টার ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মোট ১৭৫ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই অভিযানগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অবৈধ মাদকদ্রব্য ও একটি ধারালো অস্ত্র জব্দ করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অফিশিয়াল মিডিয়া সেল থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমে জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট ওই সময়সীমার মধ্যে রাজশাহী রেঞ্জাধীন বিভিন্ন জেলায় সর্বমোট ১৪৫টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব সাঁড়াশি অভিযানে সংঘটিত অপরাধের বিভিন্ন ধারায় মোট ৬৭টি নতুন মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ৩টি হত্যা মামলা, ১টি চুরির মামলা এবং অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ৬৫টি মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২৪ ঘণ্টার এই জোরালো কার্যক্রমে গ্রেপ্তারকৃত ১৭৫ জনের মধ্যে বিভিন্ন আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামির সংখ্যা ৭৫ জন। পাশাপাশি আগে থেকেই সাজাপ্রাপ্ত ১২ জন অপরাধী, বিভিন্ন তদন্তাধীন মামলার এজাহারভুক্ত ৮৬ জন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার আওতায় আরও ২ জনকে পাকড়াও করা হয়েছে। এর বাইরে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পৃথকভাবে আরও ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানকালে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে অপরাধীদের আস্তানা থেকে ১ গ্রাম হেরোইন, ২৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৬২ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১ কেজি ৫২০ গ্রাম গাঁজা এবং ১১০ বোতল ফায়ারডিল উদ্ধার করেছে। মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো একটি বার্মিজ চাকুও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, আলোচিত এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অঞ্চলে ৪টি অপমৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট সময়ে কোনো ধরনের ডাকাতি, দস্যুতা, যৌতুকজনিত হত্যা, সাইবার অপরাধ কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের কোনো মামলা থানায় নথিভুক্ত হয়নি।
এদিকে অপরাধ দমনের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক পুলিশি সেবার পরিধিও সম্প্রসারিত হয়েছে। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ১ হাজার ১৫ জন নাগরিককে বিভিন্ন ধরনের পুলিশি সেবা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ২ হাজার ৯৫৭ জন সাধারণ মানুষ এই সেবামূলক কার্যক্রমের সুফল লাভ করেছেন।


























