পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ করে জলদস্যুদের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দস্যুদের ভয়ে চরমোন্তাজসহ বিভিন্ন মৎস্যঘাটে শত শত ট্রলার অলস নোঙর করে বসে আছে। এর ফলে হাজার হাজার জেলের প্রধান জীবিকার উৎস এখন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় সশস্ত্র দস্যুরা ট্রলারের গতি রোধ করে জেলেদের বেধড়ক মারধর করে এবং ট্রলারের মাছ, জ্বালানি তেল, মোবাইল ফোন, জাল, মোটরসহ নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। চরমোন্তাজ ঘাটের জেলে আলী আহম্মেদ ও ইব্রাহিম আকন জানান, কদিন পরেই মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে, কিন্তু তার আগেই জলদস্যুদের ভয়ে তারা সাগরে যেতে পারছেন না। বিগত বছরগুলোতে মোটামুটি নিরাপদে মাছ ধরা গেলেও বর্তমানে প্রতিদিন এক-দুইটি ট্রলার ডাকাতির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা তাদের অনাহারে দিন কাটানোর উপক্রম করেছে। গত ১ অক্টোবর সোনারচরের বড় খালের কাছে দস্যুতার শিকার হওয়া একটি ট্রলারের জেলেরা ধাওয়া করে ৯ জন দস্যুকে ধরে চরমোন্তাজ ঘাটে এনে নৌপুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে মামলা হয়েছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় সমুদ্রগামী জেলের ট্রলার রয়েছে ৯৪১টি এবং নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮০৯ জন, যার বাইরেও প্রায় তিন হাজার অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। কোড়ালিয়া মৎস্য সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রশাসনের কাছে দফায় দফায় অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুফল মিলছে না। সাগরে নিয়মিত অভিযান ও টহল বাড়ানো না হলে জেলেরা পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলীও জেলেদের জানমাল রক্ষার্থে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর জোরালো টহল নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
এদিকে রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ইনচার্জ আন নূর জায়েদ জানান যে গভীর সাগর তাদের অধিক্ষেত্রের বাইরে এবং এ বিষয়ে কেউ নির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়নি, তবে নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ভিক্টন বাইন জানিয়েছেন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. আমজাদ হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন যে মাঝেমধ্যে দূরবর্তী এলাকায় তাদের নজরদারির সীমাবদ্ধতার সুযোগ নেয় দস্যুরা, তবে পুরো বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনের কঠোর নজরে রয়েছে।


























