গণমাধ্যমের চলমান অপসাংবাদিকতা, বস্তুনিষ্ঠতার চরম অভাব এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবণতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট আলেম ও সাংবাদিক মুফতি এনায়েতুল্লাহ। রোববার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘পত্রিকার খবর কোনো ধর্মবাণী নয়’ শিরোনামে একটি সুদীর্ঘ পোস্ট প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ও সততা নিয়ে গুরুতর সব প্রশ্ন তুলে ধরেন তিনি।
মুফতি এনায়েতুল্লাহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন যে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মিথ্যা ও মনগড়া সংবাদের কারণে যাঁদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কেবল তাঁরাই এর আসল মর্মান্তিক যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারেন। সমাজে সুনির্দিষ্ট কোনো ন্যারেটিভ বা মনগড়া বয়ান প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টার ফলে চোখের সামনে বহু খ্যাতিমান আলেম, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে অহেতুক হেস্তনেস্ত ও হেনস্তার শিকার হতে দেখেছেন বলে তিনি জানান। অনেক ক্ষেত্রে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ উদ্ধার করতে এবং আর্থিক বিনিয়োগকারী ও মহলের প্রভূত্ব রক্ষার্থে এমন অসত্য অপপ্রচার চালিয়ে থাকে বলে তাঁর জোরালো অভিযোগ।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদলিপির কার্যকারিতা নিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাঠানো প্রতিবাদ বা স্পষ্টীকরণ অনেক সময় যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয় না, আর প্রকাশিত হলেও তা সাধারণ পাঠকের দৃষ্টিগোচর হয় না। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনবোধে পত্রিকা পুড়িয়ে বা ছিঁড়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করার যৌক্তিক অধিকার রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন যে, পত্রিকার সংবাদ কখনোই কোনো চিরন্তন ধর্মবাণী নয় এবং এর সম্পাদক বা সংবাদকর্মীরাও কোনো infallible সত্যবাদী মহাপুরুষ নন; বরং তারাও বহু ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেন, নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকেন এবং নিজেদের মালিক বা দলীয় স্বার্থ রক্ষা করে চলেন। পরিশেষে তিনি মন্তব্য করেন যে, কিছু সংবাদকর্মী নিজেদের যেভাবে সর্বশক্তিমানরূপে জাহির করতে চান, তাঁরা যদি নিজ নিজ পেশার প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধ থাকতেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকভাবে সৎ হতেন—তাহলে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হতো না এবং পত্রিকা পুড়িয়ে ফেলার মতো এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটত না।


























