সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেলের স্থাপনায় আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। রোববার (৪ অক্টোবর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির তেলসমৃদ্ধ খুরাইস অঞ্চলে আরামকোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তাদের বাহিনী একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ‘‘উভয় অভিযানই সফলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অত্যন্ত নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে হামলাগুলো চালানো হয়, যার ফলে লক্ষ্যবস্তু করা আরামকোর স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।‘’
ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষ থেকে হুথিদের দখলে থাকা ভূখণ্ডগুলো পুনরুদ্ধারে নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদিতে এই হামলার ঘটনা ঘটল। ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রশাদ আল-আলিমি সম্প্রতি জানান, ‘ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের অবশিষ্ট ভূখণ্ড উদ্ধার’ এবং দেশজুড়ে সরকারের সার্বিক কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে সরকারি বাহিনী নতুন সামরিক অভিযান শুরু করবে। সমস্ত সরকারি বাহিনীকে অনুমোদিত সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, হুথিদের দখলদারিত্ব সম্পূর্ণ অবসানের আগপর্যন্ত এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মূলত ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিদের কৌশলগত অগ্রগতির পর সরকার এই কঠোর অবস্থানের কথা জানায়। চারটি পৃথক নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তায়েজ ও এর আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর হুথিরা তায়েজ শহরের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনের সংযোগকারী প্রধান কৌশলগত সরবরাহ রুটটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। হুথিদের এই আকস্মিক অগ্রগতি বর্তমানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে চরম সামরিক চাপে ফেলেছে।
ইয়েমেন সংঘাতের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই নতুন সামরিক পরিস্থিতি তৈরি হলো। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেন সরকারকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব। অন্যদিকে, হুথি বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে সর্বাত্মক সমর্থন জুগিয়ে আসছে ইরান। বছরের পর বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে এর আগেও বহুবার সৌদি ভূখণ্ড ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে একই ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ একদিকে যেমন বিশ্বে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে, তেমনি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব আল-মানদেব প্রণালি’র কাছে ইয়েমেনের কৌশলগত অবস্থানের কারণে আঞ্চলিক রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।























