স্কটল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর গ্লাসগোর প্রাণকেন্দ্রে এক ২৭ বছর বয়সি বাংলাদেশি যুবক বর্ণবাদী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সিগারেট দিতে রাজি না হওয়ায় এক শেতাঙ্গ ব্যক্তি প্রকাশ্যে তাঁকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। গ্লাসগো সিটি সেন্টার এলাকার সামনে মারধরের সময় আক্রান্ত যুবক বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও তাঁকে বাঁচাতে আশেপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি। স্থানীয় সময় গত বুধবার সকালে গ্লাসগো শহরের কিলারমন্ট স্ট্রিট ও সচিহল স্ট্রিটের সংযোগস্থলে অবস্থিত ‘সেইন্সবারি’ সুপারশপের সামনের সড়কে ঘটনাটি ঘটে।
আক্রান্ত যুবক ইফতেখার উল-ইসলাম ঘটনাটিকে স্পষ্ট ‘বর্ণবাদী’ হামলা হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। হামলার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লাসগো লাইভ’-কে জানান, তিনি মূলত গ্লাসগোর পার্শ্ববর্তী এরড্রি (Airdrie) অঞ্চলের অধিবাসী। গত বুধবার সকাল ৭টার কিছু আগে নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার সুবিধার্থে তাঁর স্ত্রী তাঁকে কিলারমন্ট স্ট্রিট ও সচিহল স্ট্রিট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে যান। সেখানে সুপারশপের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ধূমপান করছিলেন। এমন সময় সম্পূর্ণ অপরিচিত এক স্থানীয় স্কটিশ লোক এসে তাঁর কাছে একটি সিগারেট চায়।
ইফতেখারের কাছে অতিরিক্ত কোনো সিগারেট না থাকায় তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর ওই ব্যক্তি তাঁকে একটি পানীয় কিনে দেওয়ার দাবি করে। কিন্তু তাঁর কাছে কোনো নগদ অর্থ নেই বলে জানালে মার্জিত পোশাক পরিহিত ওই লোকটির আচরণ হঠাৎ অত্যন্ত হিংস্র ও উগ্র হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইফতেখার সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত লোকটি পেছন দিক থেকে তাঁর পিঠের ব্যাকপ্যাকটি শক্ত করে চেপে ধরে। আক্রান্ত ইফতেখার জানান, লোকটি তাঁকে আঘাত করার হুমকি দিলে তিনি পুলিশে খবর দেওয়ার ভয় দেখান। এতে লোকটির সহিংসতা আরও বেড়ে যায়। পেছন থেকে ব্যাগ ধরে সে ইফতেখারের নাক ও মাথা লক্ষ্য করে একের পর এক কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। এতে তাঁর নাক দিয়ে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে এবং মাথা ঘুরতে শুরু করে। ওই সময় আশেপাশে একাধিক মানুষ উপস্থিত থাকলেও এবং তিনি সাহায্যের জন্য আকুতি জানালেও কেউ তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।
ইফতেখার জানান, লোকটির কাছে কোনো ছুরি বা প্রাণঘাতী অস্ত্র আছে কি না তা নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কে ছিলেন। তবে মাটিতে পড়ে না যাওয়াটা তাঁর জন্য ভাগ্যক্রমে ভালো হয়েছে; কারণ মাটিতে পড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। ঘটনার পরপরই ইফতেখার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, ঘুষির আঘাতে তাঁর নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়ে গেছে এবং এটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত ১০ দিন সময় লাগবে। ইফতেখারের মতে, বর্ণবাদী উদ্দেশ্যে চালানো এই হামলার পুরো ঘটনাটি সংলগ্ন সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ করা হয়েছে। এই ভিডিও ফুটেজ তিনি স্কটল্যান্ড পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। তিনি চেয়েছিলেন যেন দুষ্কৃতকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে, তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ বিষয়ে স্কটল্যান্ড পুলিশের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁরা সচিহল স্ট্রিট এলাকায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার তথ্য পেয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


























