পাকিস্তানের জাতীয় সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া থেকে রক্ষা পেতে লাহোর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েও ব্যর্থ হয়েছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। এনসিসিআইএ’র জারি করা নোটিশ ও তদন্ত কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে তাঁর দায়ের করা রিট আবেদনটি আদালত সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন এবং তাকে এজেন্সির আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, পাকিস্তান ক্রিকেটে অনলাইন বাজি বা জুয়া সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর এনসিসিআইএ রিজওয়ানকে তলব করে নোটিশ পাঠায়। ওই নির্দেশনার ভিত্তিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর রিজওয়ান এবং অপর সতীর্থ ব্যাটার ইমাম-উল-হক এনসিসিআইএ কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে গত বুধবার আইনজীবীর মাধ্যমে লাহোর হাইকোর্টে সংস্থাটির তলবি নোটিশ ও আইনি এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দাখিল করেন রিজওয়ান। সেখানে তাঁর পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, এনসিসিআইএ ঠিক কী উদ্দেশ্যে তাঁকে তলব করেছে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি এবং এ বিষয়ে তদন্ত চালানোর কোনো বৈধ অধিকার সংস্থাটির নেই।
রিজওয়ানের কৌঁসুলি কাজী উমাইর আলীর পেশ করা আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ‘প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট, ২০১৬’ কিংবা ২০২৫ সালে এতে যুক্ত হওয়া নতুন সংশোধনীসমূহে অনলাইন বাজি ধরাকে ‘তফসিলভুক্ত অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। ফলে এই ধরনের অনুসন্ধান সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, হয়রানিমূলক এবং খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার সামিল। যেকোনো ধরনের গ্রেপ্তার বা জবরদস্তিমূলক আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কায় রিজওয়ান আদালতের কাছে এনসিসিআইএ-র নোটিশটি বাতিল এবং তাঁদের সমস্ত প্রতিকূল পদক্ষেপ স্থগিত রাখার আবেদন জানান।
তবে বৃহস্পতিবার লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারক আলিয়া নীলম আবেদনটির শুনানি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং রিজওয়ানের রিটটি খারিজ করে দেন। বিচারক নির্দেশ দেন, আদালতে আসার আগে রিজওয়ানকে অবশ্যই এনসিসিআইএ-র নোটিশের একটি লিখিত জবাব আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করতে হবে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গণমাধ্যমের সামনে রিজওয়ানের আইনজীবী দাবি করেন যে, সংস্থাটির তলবি নোটিশের জবাব আগেই তাঁদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়ে গেছে।

























