Dhaka ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

গয়না ও বিনিয়োগ ছাড়িয়ে স্বর্ণের বহুমুখী ব্যবহার: খাবার থেকে মহাকাশযান

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

স্বর্ণের কথা উঠলেই সাধারণত গয়না ও বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহারই আমাদের মনে আসে। হাজার বছর ধরে এই মূল্যবান ধাতু অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেও বিশ্বজুড়ে এর কদর রয়েছে।

তবে অলংকার ও বিনিয়োগের বাইরেও আধুনিক যুগে স্বর্ণের বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে মহাকাশযান এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এমনকি কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে স্বর্ণ খাওয়াও যায়, যা ‘এডিবল গোল্ড’ নামে পরিচিত।

স্বর্ণের এই বিস্তৃত ব্যবহারের মূলে রয়েছে এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য। এটি সহজে ক্ষয় বা মরিচা ধরে না, বিদ্যুৎ পরিবহনে অত্যন্ত দক্ষ এবং একে অত্যন্ত পাতলা পাতে বা সূক্ষ্ম তারে রূপ দেওয়া যায়।

খাবারে ব্যবহৃত স্বর্ণ সাধারণত ২২ থেকে ২৪ ক্যারেটের উচ্চ বিশুদ্ধতার হয়ে থাকে এবং এটি অত্যন্ত পাতলা করে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুশি, মিষ্টি, চকলেট, কেক, আইসক্রিমসহ নানা বিশেষ খাবার সাজাতে খাওয়ার উপযোগী স্বর্ণের পাত বা ‘এডিবল গোল্ড লিফ’ ব্যবহার করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে খাবারে ব্যবহৃত স্বর্ণ ‘ই১৭৫’ নামে একটি অনুমোদিত ফুড অ্যাডিটিভ।

তবে স্বর্ণ খেলে শরীরের বিশেষ কোনো উপকার বা পুষ্টি পাওয়া যায় না। ধাতব স্বর্ণের দ্রাব্যতা খুব কম হওয়ায় মানুষের পরিপাকতন্ত্রে এটি শোষিত হয় না। ফলে খাবারে স্বর্ণ ব্যবহারের উদ্দেশ্য মূলত সাজসজ্জা ও বিলাসিতা, পুষ্টি নয়।

দামি ও বিলাসবহুল হোটেল-রেস্তোঁরায় খাবার ও পানীয়কে আকর্ষণীয় করে তুলতে অতি পাতলা স্বর্ণের পাত, ছোট টুকরা, গুঁড়া বা ক্ষুদ্র পাপড়ির মতো করে স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ এশিয়াতেও মিষ্টি সাজাতে স্বর্ণ বা রুপার পাত ব্যবহারের দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে, যা ‘ভারক’ বা ‘ওয়ার্ক’ নামে পরিচিত।

খাবারে স্বর্ণ ব্যবহারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ২০২৩ সালে ‘পার্টিকল অ্যান্ড ফাইবার টক্সিকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ‘ই১৭৫’ খাওয়ানোর পর তাদের লিভার, প্লীহা বা অন্ত্রে সরাসরি কোনো ক্ষতি পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

গয়না ও বিনিয়োগ ছাড়িয়ে স্বর্ণের বহুমুখী ব্যবহার: খাবার থেকে মহাকাশযান

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

স্বর্ণের কথা উঠলেই সাধারণত গয়না ও বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহারই আমাদের মনে আসে। হাজার বছর ধরে এই মূল্যবান ধাতু অলংকার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেও বিশ্বজুড়ে এর কদর রয়েছে।

তবে অলংকার ও বিনিয়োগের বাইরেও আধুনিক যুগে স্বর্ণের বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে মহাকাশযান এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এমনকি কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে স্বর্ণ খাওয়াও যায়, যা ‘এডিবল গোল্ড’ নামে পরিচিত।

স্বর্ণের এই বিস্তৃত ব্যবহারের মূলে রয়েছে এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য। এটি সহজে ক্ষয় বা মরিচা ধরে না, বিদ্যুৎ পরিবহনে অত্যন্ত দক্ষ এবং একে অত্যন্ত পাতলা পাতে বা সূক্ষ্ম তারে রূপ দেওয়া যায়।

খাবারে ব্যবহৃত স্বর্ণ সাধারণত ২২ থেকে ২৪ ক্যারেটের উচ্চ বিশুদ্ধতার হয়ে থাকে এবং এটি অত্যন্ত পাতলা করে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুশি, মিষ্টি, চকলেট, কেক, আইসক্রিমসহ নানা বিশেষ খাবার সাজাতে খাওয়ার উপযোগী স্বর্ণের পাত বা ‘এডিবল গোল্ড লিফ’ ব্যবহার করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে খাবারে ব্যবহৃত স্বর্ণ ‘ই১৭৫’ নামে একটি অনুমোদিত ফুড অ্যাডিটিভ।

তবে স্বর্ণ খেলে শরীরের বিশেষ কোনো উপকার বা পুষ্টি পাওয়া যায় না। ধাতব স্বর্ণের দ্রাব্যতা খুব কম হওয়ায় মানুষের পরিপাকতন্ত্রে এটি শোষিত হয় না। ফলে খাবারে স্বর্ণ ব্যবহারের উদ্দেশ্য মূলত সাজসজ্জা ও বিলাসিতা, পুষ্টি নয়।

দামি ও বিলাসবহুল হোটেল-রেস্তোঁরায় খাবার ও পানীয়কে আকর্ষণীয় করে তুলতে অতি পাতলা স্বর্ণের পাত, ছোট টুকরা, গুঁড়া বা ক্ষুদ্র পাপড়ির মতো করে স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ এশিয়াতেও মিষ্টি সাজাতে স্বর্ণ বা রুপার পাত ব্যবহারের দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে, যা ‘ভারক’ বা ‘ওয়ার্ক’ নামে পরিচিত।

খাবারে স্বর্ণ ব্যবহারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ২০২৩ সালে ‘পার্টিকল অ্যান্ড ফাইবার টক্সিকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ‘ই১৭৫’ খাওয়ানোর পর তাদের লিভার, প্লীহা বা অন্ত্রে সরাসরি কোনো ক্ষতি পাওয়া যায়নি।