পাকিস্তান আবারও কেঁপে উঠেছে রক্তাক্ত বিস্ফোরণের ধাক্কায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সংঘটিত সাম্প্রতিক দুটি আত্মঘাতী হামলার পেছনে ছিলেন আফগান নাগরিকরা। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন, যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।
গত বুধবার ইসলামাবাদের জেলা আদালত প্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত হন, আহত হন ৩০ জনেরও বেশি মানুষ। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডির কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাওয়ালপিন্ডির ফাউজি কলোনি ও ধোকে কাশ্মিরিয়ান এলাকা থেকে। পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেও অভিযান চালানো হয়।
এর আগে সোমবার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আফগান সীমান্তের কাছের ক্যাডেট কলেজে চালানো হয় আরেকটি আত্মঘাতী হামলা। বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি কলেজের মূল ফটকে আঘাত হানলে দুই হামলাকারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়, তবে আরও তিনজন ভেতরে ঢুকে পড়ে বলে জানায় পুলিশ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠেছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, আফগান সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিরাই পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত মাসেই সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের বহু সেনা ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মঙ্গলবার বলেন, দেশটি এখন কার্যত “যুদ্ধাবস্থায়” রয়েছে এবং প্রয়োজনে আফগান ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। তিনি বলেন, “যারা মনে করে এই যুদ্ধ শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ, তারা আজকের ইসলামাবাদ আদালত হামলা থেকে শিক্ষা নিক। এই যুদ্ধ এখন আমাদের ঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।”
এদিকে, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে পাস হয়েছে একটি বিতর্কিত সাংবিধানিক সংশোধনী বিল, যা সেনাপ্রধানকে আজীবন দায়মুক্তি প্রদান করে। ২৭তম সংশোধনী নামে পরিচিত এই বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়, যদিও বিরোধী দলগুলো একে “সেনাবাহিনীর ক্ষমতা আরও পোক্ত করার ষড়যন্ত্র” বলে সমালোচনা করেছে।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সদ্য ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত সেনাপ্রধান আসিম মুনির এখন থেকে স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সর্বময় অধিনায়ক হবেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে একটি ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত, যা সামরিক সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা নির্ধারণ করবে।
রক্তে রাঙানো ইসলামাবাদ ও সীমান্তের মেঘলা আকাশ আজ পাকিস্তানকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—শান্তির স্বপ্ন এখনও বহু দূরের। প্রতিবেশী দুই দেশের অবিশ্বাস, প্রতিশোধ আর রাজনীতির ছায়ায় সাধারণ মানুষের জীবন প্রতিদিনই হয়ে উঠছে আরও অনিশ্চিত, আরও ভীতিকর।
















