শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত’ আখ্যা বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের
ফার্মগেটে কর্মশালায় বক্তব্য দিয়ে তারেক রহমান বলেন—নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি দল-গোষ্ঠী সক্রিয়; গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি দল উঠেপড়ে লেগেছে—এমন অভিযোগ তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শুক্রবার ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক বিএনপির সপ্তাহব্যাপী কর্মশালার বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্তের হুমকি দিয়েছে। তার দাবি, একটি দল ও কিছু গোষ্ঠী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সব দল, নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে ‘জঘন্য হামলা’ ও ‘গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে আরেক বিএনপি প্রার্থীর ওপরও হামলা হয়েছে—যা রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। তিনি দেশজুড়ে গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ ও এসব হামলার প্রতিবাদ গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের জ্যেষ্ঠ পুত্র বলেন, প্রশাসনের তদন্তকারীদের সঙ্গে বিএনপি সহযোগিতা করবে, যাতে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি শরিফ ওসমান হাদি এবং এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলা দেখিয়ে দিচ্ছে—গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান নিতে হবে। দেশের মানুষ যেন তাদের হারানো অধিকার ফিরে পায়, সেজন্য দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণায় অনেকে অস্বস্তি বোধ করলেও শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করেছে দেশ। জনগণ এখন সচেতন—ধর্মীয় আবেগে ভোট নেওয়ার দিন শেষ। পরিকল্পিত রাজনৈতিক কাজ মাঠে গড়িয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ নেতারা বক্তব্য দেন।
















