বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন ও বিস্ময়কর স্থাপনাগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডের সলসবেরি সমভূমিতে অবস্থিত স্টোনহেঞ্জ অন্যতম। হাজার বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি প্রাচীন মানবসভ্যতার সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই বিশাল স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে গবেষক ও ইতিহাসবিদরা এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
এই প্রাচীন কাঠামোগুলো প্রধানত সারসেন এবং ব্লুস্টোন নামক দুই ধরনের পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় আকারের সারসেন পাথরগুলোর ওজন কয়েক দশক টন পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত ছোট ব্লুস্টোনগুলো দূরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রাচীন যুগে এত ভারী পাথরগুলো কীভাবে সংগ্রহ এবং স্থাপন করা হয়েছিল, তা আজও আধুনিক বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তোলে।
স্টোনহেঞ্জের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর পাথরের বিন্যাসের সঙ্গে সূর্যের গতির নিবিড় সম্পর্ক। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন অয়নান্তের সময় সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার সঙ্গে স্থাপনার বিন্যাসের অদ্ভুত মিল রয়েছে। প্রাচীনকালের মানুষের জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং ঋতু পরিবর্তনের হিসাব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ছিল বলেই এর প্রমাণ মেলে।
সূর্য ছাড়াও চাঁদের গতিপথ এবং বিভিন্ন মহাজাগতিক ঘটনার সঙ্গে এই প্রাচীন কাঠামোর সংযোগ নিয়ে এখনো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। স্টোনহেঞ্জ কেবল একটি প্রাচীন স্থাপনা নয়, বরং এটি মানব ইতিহাসের প্রাচীন জ্ঞান ও বিশ্বাসের এক অনন্য নিদর্শন।


























