চীনের গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বশাসিত তাইওয়ানের সঙ্গে ‘পুনরেকত্রীকরণ’-এর লক্ষ্য অর্জনে আরও জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) চীনের জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শত শত অতিথির উপস্থিতিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে বেইজিং এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথও তারা খোলা রেখেছে। ভাষণে শি জিনপিং তাইওয়ান প্রণালির দুই পাড়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র পক্ষে যেকোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি এবং এ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বহিরাগত বা বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক আলোচনায় তাইওয়ানের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানে অনড় থাকতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন শি জিনপিং। এর আগে মে মাসে তাইওয়ানের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার একটি চুক্তি ওয়াশিংটন স্থগিত রেখেছিল, যা ট্রাম্প চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য তাইওয়ান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর দুই দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধের শেষে কমিউনিস্ট বাহিনী জাতীয়তাবাদী কুওমিনতাং বাহিনীকে পরাজিত করার পর গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরাজিত জাতীয়তাবাদীরা তাইওয়ানে পালিয়ে যায়।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে শি জিনপিং উল্লেখ করেন যে, চীন বর্তমানে একটি ‘জটিল আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে উন্নয়নের নতুন কাঠামো গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। পরিবর্তন ও অস্থিরতায় জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে অবিচল থেকে আরও বেশি নিশ্চয়তা ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।























