উয়েফা নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ না পাওয়া এবং পুরো সময় বেঞ্চে কাটিয়ে দেওয়ার ঘটনার জেরে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প চিরতরে বা স্থায়ীভাবে ছেড়ে চলে গেছেন দলটির অধিনায়ক ও মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে তাঁর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার জল্পনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে পর্তুগাল ২-১ গোলে জয়লাভ করলেও কোচ জর্জে জেসুস পুরো ৯০ মিনিটই রোনালদোকে মাঠের বাইরে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন—যা দীর্ঘ ১৮ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে রোনালদোর জন্য এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল। এর ঠিক পরপরই ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোনো ধরনের অনুশীলন না করেই হোটেল বা ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান সিআরসেভেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রোনালদো জানিয়েছেন, জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি ক্যাম্প ছাড়ার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান যে, এই দলের প্রতি তাঁর নিবেদন সবসময় শতভাগ ছিল এবং উপযুক্ত সময়ে তিনি সব পর্তুগিজ নাগরিক ও সমর্থকদের কাছে দল ছাড়ার প্রকৃত কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
এদিকে দলের ভেতরে তৈরি হওয়া এই আকস্মিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মাঝে কোচ জর্জে জেসুস নিজের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দেন যে, স্কোয়াড পরিচালনা, কাকে কতক্ষণ খেলানো হবে কিংবা আদতে মাঠে নামানো হবে কি না—তা সম্পূর্ণভাবে কোচের একক এখতিয়ার এবং কোনো ফুটবলারই সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে না। অন্যদিকে, রোনালদো ও কোচের মধ্যকার এই বিরোধ ও সংকট নিরসন করতে জরুরিভাবে ময়দানে নেমেছেন পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সা। আজোরেসে অনূর্ধ্ব-২১ দলের ম্যাচ দেখার পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি পুরোপুরি বাতিল করে তিনি সরাসরি কোপেনহেগেনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং সেখান থেকে মালমোয় গিয়ে কোচ জর্জে জেসুস ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

























