মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া সরকার। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া ‘অপস পিয়ার ১.০’ বা অপারেশন পিয়ার-এর প্রথম ধাপে মোট ১ হাজার ৪৭৬ জন নাগরিককে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতার আওতায় ধাপে ধাপে সর্বমোট ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে মালয়েশিয়া সরকারের।
মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল উপায়ে পরিচালিত হচ্ছে। তবে মিয়ানমারে বর্তমানে চলামান তীব্র গৃহযুদ্ধ ও চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে এই নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ফলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নাগরিক অধিকার সংগঠন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (কেডিএন) নীতি ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপ-সচিব দাতুক মাখজান মাহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, দেশটির ১৪টি ভিন্ন ভিন্ন ইমিগ্রেশন আটককেন্দ্র থেকে প্রথম ধাপের এসব নাগরিককে একত্রিত করা হয়েছে। এই দলে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন ছেলে এবং ৭ জন মেয়ে শিশু রয়েছে, যাদের সবার বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
আটকদের বহনকারী মোট ৪৬টি বাস ভোর ৪টা থেকে পর্যায়ক্রমে মানজুং মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছায়। সেখানে প্রয়োজনীয় পরিচয় ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের লুমুতের রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভি (টিএলডিএম) ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। লুমুত নৌঘাঁটির কেডি শ্রী ইন্দেরা সাকতিতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দাতুক মাখজান মাহিউদ্দিন জানান, মিয়ানমার সরকার গত ১৩ আগস্ট কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে নিজ দেশের এসব নাগরিককে শনাক্ত করে একটি আনুষ্ঠানিক তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে পাঠিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, যে কোনো দেশের নাগরিককে নিজ দেশের ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উৎস দেশের সম্মতি এবং সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে নাগরিকত্ব যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, নিজ দেশে গ্রহণ এবং সামগ্রিক প্রত্যাবাসনের পদ্ধতি নির্ধারণে এই সহযোগিতা অপরিহার্য। মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই মূলত এই ৫ হাজার নাগরিককে ধাপে ধাপে ফেরত পাঠানোর চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে। মাখজান জোর দিয়ে বলেন যে, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে সম্মত বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করেই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল উপায়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।























