দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম আবারও হ্রাস করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়, যা কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের অলংকার এখন ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকায় বিক্রি হবে, যার ফলে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণ ১৮ হাজার ৮৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৬ হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১৩ হাজার ২২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বরও বাজুস স্বর্ণের দাম কিছুটা কমিয়েছিল। দুই দিনের ব্যবধানে নতুন এই হ্রাসের ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে মোট দাম কমেছে প্রায় ২ হাজার ১৫৯ টাকা। স্বর্ণের বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পাশাপাশি রুপার দামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার অলংকার এখন থেকে ৩৮৫ টাকায়, ২১ ক্যারেট ৩৭০ টাকায়, ১৮ ক্যারেট ৩২০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপা ২৪০ টাকায় বিক্রি হবে। এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেট রুপার দাম প্রতি গ্রাম ৪১৫ টাকা থাকায় দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩০ টাকা হ্রাস পেয়েছে।
বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, অলংকারের ডিজাইন বা নকশা অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে, তবে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের ভেতরেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। পুরোনো স্বর্ণের অলংকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে, এবং এক্সচেঞ্জ বা পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। মূলত স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্যতালিকা কার্যকর থাকবে।


























