পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে গত তিন দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালিত ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ভারত ও আফগানিস্তানের মদদপুষ্ট অন্তত ৭১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, টানা ৯৬ ঘণ্টার এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই অভিযانের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, নিহত ব্যক্তিরা দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। তবে পাকিস্তানের এই দাবির প্রেক্ষিতে ভারত কিংবা আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে বেলুচিস্তানের ঘটনার পাশাপাশি আফগানিস্তানের পক্ষ থেকেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। কাবুলের দাবি, পাকিস্তান থেকে দায়েশ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম করে পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে প্রবেশের পর তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে ২৮ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। তবে আফগানিস্তানের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইসলামাবাদ এটিকে ‘হাস্যকর, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে অভিহিত করেছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নুরিস্তান বা আফগানিস্তানের অন্য কোনো অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ বা দায়েশকে সহায়তার দাবিও ভিত্তিহীন।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে চলতি মাসের শুরুতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলায় ১৬ জন পুলিশসহ মোট ৩১ জন নিহত হন, যা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চালানো অন্যতম বড় হামলা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আফগান ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেশটির ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। কাবুল এই হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার দাবি জানালেও ইসলামাবাদ এটিকে নির্ভুল ও সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত পরিমিত হামলা বলে বর্ণনা করেছে।
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলা সীমান্তপারের হামলা, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার পারস্পরিক অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসলামাবাদ আফগান তালেবান সরকারকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার এবং টিটিপির মতো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে কাবুলও তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।























