প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র সৈকত, ম্যানগ্রোভ বন, পাহাড়, নদী এবং সমৃদ্ধ ইতিহাসের অপূর্ব সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ পর্যটন খাতের দিক থেকে অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ। কক্সবাজার, সুন্দরবদন্ত, সিলেট, পাহাড়ি জনপদ কিংবা মহাস্থানগড় ও ষাট গম্বুজ মসজিদের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিশাল এই সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জটিলতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশের পর্যটন শিল্প কাঙ্ক্ষিত মানে বিকশিত হতে পারছে না।
পর্যটন বিকাশের প্রধান বাধা হিসেবে উঠে এসেছে অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। দেশীয় পর্যটকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোতে যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় সময় ও খরচ উভয়ই অতিরিক্ত বেড়ে যায়। বিশেষ করে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার মতো স্পটগুলোতে মানসম্মত হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ পর্যাপ্ত নয়। কোথাও কোথাও স্থানীয় যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং অতিরিক্ত খরচের বিড়ম্বনায় পর্যটকরা ভোগান্তির শিকার হন। এছাড়া পাহাড়ি বা দুর্গম এলাকায় জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধারকারী দল ও পর্যাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশের অনুপস্থিতির কারণে নিরাপত্তার বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে, যা পর্যটকদের পরিবারসহ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে।
পরিবেশগত ও ব্যবস্থাপনাগত সংকটের দিকটিও অত্যন্ত প্রকট। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সাবেক প্রেসিডেন্ট শিবলুল আযম কোরেশী এবং ট্যুরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিডিবি) সদস্য সুমন আহমেদ মনে করেন, পর্যটন খাতের প্রসারে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সঠিক প্রচার ও ব্র্যান্ডিং এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানিয়েছেন যে, পর্যটনের বিকাশে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা মাথায় রেখেই সরকার কাজ করছে। পর্যটন স্পটগুলোকে আকর্ষণীয় ও নিরাপদ করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডেস্টিনেশন সুনির্দিষ্টকরণ, দক্ষ গাইড তৈরি এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যকারিতা বাড়ানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি, পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সুবিধা সংযুক্ত করার প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


























