বাংলা কাব্যসাহিত্যের ইতিহাসে নব্বইয়ের দশক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়, যখন একদল প্রতিভাবান লেখক কাব্যজগতে নানা নিরীক্ষা ও বৈচিত্র্য নিয়ে আবির্ভূত হন। এই প্রজন্মের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে ইমরুল হাসান বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। আশির দশকে বাংলা কবিতায় যে রূপান্তর ও বাঁকবদল শুরু হয়েছিল, নব্বইয়ের দশকে তা আরও সুনির্দিষ্ট রূপ লাভ করে। আগের দশকের বহির্মুখীন যাত্রার বিপরীতে নব্বইয়ের কবিতায় একধরনের অন্তর্মুখীনতা লক্ষ্য করা যায়, যা মানুষের চিন্তা-পদ্ধতি ও ভাষার গঠনেও প্রভাব ফেলে।
এ সময়কার কবিতায় মুখের কাছাকাছি ও পূর্ববঙ্গীয় জনপদের ভাষার আবহ তৈরি হয়, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন, ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা ও বেদনার বাস্তব রূপ ফুটে ওঠে। ঔপনিবেশিক আধুনিকতার ইউরোপীয় প্রভাবে আচ্ছন্ন কাব্যরীতি থেকে বেরিয়ে এসে নব্বইয়ের কবিরা লৌকিক ও ঐতিহ্যবাহী শেকড়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর তাগিদ অনুভব করেন। ফলশ্রুতিতে, কেবল শব্দনির্ভর নান্দনিকতা বা কৃত্রিম সুন্দর তৈরির প্রবণতা কাটিয়ে কবিতায় সমসাময়িক জীবনবোদ ও মানুষের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর জোরালোভাবে স্থান পেতে শুরু করে।


























