ভারতের মণিপুর রাজ্যের কামজং জেলায় সন্দেহভাজন কুকি ন্যাশনাল আর্মি–বার্মার (কেএনএ-বি) সদস্যদের গুলিতে চারজন নাগা বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাবা ও ছেলের মতো সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় নাগা সংগঠনগুলো ২৪ ঘণ্টার জরুরি অবরোধের ডাক দিয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওই দিন সন্ধ্যায় অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সন্দেহভাজন কেএনএ-বির সদস্যরা পিলং নাগা গ্রামে প্রবেশ করে এবং গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন।
পিলং নাগা গ্রামটি ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং কামজং জেলা সদর থেকে গ্রামটির দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।
সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ডের ফলে গত প্রায় দুই সপ্তাহে নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে জড়িত পৃথক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা অন্তত আটজনে দাঁড়িয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফামি জাজো (৪৩), নিংথেম কাসাক (৩৫), বেটারসন জাজো (৫০) ও ভারেইশিম জাজো (৬৭)। এদের মধ্যে ভারেইশিম জাজো ও ফামি জাজো সম্পর্কে বাবা-ছেলে। ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ কামজং জেলা সদরে পাঠানো হয়েছে।
নাগা সম্প্রদায়ের এই চার নাগরিক হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে টাংখুল নাগা লং (টিএনএল)। সংগঠনটি শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে তাদের আওতাধীন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জরুরি অবরোধের ডাক দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে টিএনএলের সম্পাদক থানরেইঙ্গাম মুইভা জানান, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদেই এই অবরোধ পালন করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও অগ্নিনির্বাপণ সেবাসহ জরুরি পরিষেবা এবং শেষকৃত্য ও শোক প্রকাশের কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চলাচল অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।
এদিকে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংয়ের আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর উখরুল সফরের বিরোধিতা করেছে নাগা যুব সংগঠন খানুইথথট-খোন (টাংখুল নাগা যুবকদের কণ্ঠস্বর)। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর উখরুলে একটি জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও নাগা-অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তার এই সফর পুনর্বিবেচনা করা উচিত। বিবৃতিতে সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসও) ব্যবস্থার আওতায় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অব্যাহত উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।























