ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মুখ ঢেকে রাখার পোশাক যেমন বোরকা ও নিকাব ব্যবহার নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি করেছে মেলোনি সরকার। একই সঙ্গে ইতালীয় শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে অ-ইতালীয় বা বিদেশি ভাষাভাষী শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই নীতিমালা বা নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১,০০০ ইউরো (প্রায় ১,১৪০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানার আইনি বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মুখ ঢেকে পরিচয় গোপন রেখে কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তি স্কুলের সীমানায় প্রবেশ করতে পারবে না। কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী নিয়ম অমান্য করলে সেই জরিমানার অর্থ তার অভিভাবককে পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া যেসব অভিভাবকের ইতালীয় ভাষা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি ভাষা শিক্ষার ক্লাসে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে জারি করা এই অধ্যাদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও এটি চূড়ান্ত আইনে পরিণত হতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইতালীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট সেরজিও মাত্তারেলার স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে জানিয়েছেন, নিয়ম বিসর্জন না দিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মূলধারায় সমন্বিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন এ নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করেছে। বিরোধী নেতাদের মতে, ইতালির শিক্ষাব্যবস্থার মূল সংকটগুলো থেকে নজর সরাতেই এ ধরনের রাজনৈতিক ও ভাবাদর্শগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতালির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট স্কুল শিক্ষার্থীর প্রায় ১১.২ থেকে ১১.৬ শতাংশ বিদেশি নাগরিক এবং বর্তমানে দেশের কেবল ৭.৬ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে।























