যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটি শি জিনপিংয়ের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এটি তৃতীয় বৈশ্বিক সাক্ষাৎ। বুধবার অ্যান্ড্রুজ এয়ারফোর্স বেসে পৌঁছানোর পর শি জিনপিংকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে উপস্থিত থেকে ব্যক্তিগতভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সামরিক বিমান প্রদর্শনীসহ (ফ্লাইওভার) তাঁকে এক সুসজ্জিত রাজকীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এমন জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানোর ঘটনাকে নজিরবিহীন কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
দুই পরাশক্তির এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় প্রধানত বৈশ্বিক বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত প্রসার এবং তাইওয়ান সংকট গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় এটি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার মধ্যে স্বাক্ষরিত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ঐ চুক্তির শর্তানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ স্থগিত রেখেছিল এবং চীনও তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ ধাতু রপ্তানির ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৯১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অতি সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তাদের বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের মধ্যকার বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে অবিহিত করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক সহযোগিতার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সুপারইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের শীর্ষ আলোচনার অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প ও শি জিনপিংকে দ্রুত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রযুক্তি খাতে মার্কিন প্রাধান্য বজায় রাখাকে মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এআই প্রযুক্তির দৌড়ে যে জয়ী হবে, সে-ই পুরো বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করবে। অন্যদিকে, তাইওয়ান ইস্যুটিও বৈঠকে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে তাইওয়ানের কাছে কোটি কোটি ডলারের আধুনিক অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদিত হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাতে এখনও সই করেননি; যাকে তিনি চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক দর কষাকষির মূল হাতিয়ার হিসেবে রাখছেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শি জিনপিং এই বৈঠকে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি দীর্ঘ মেয়াদে স্থগিত বা সম্পূর্ণ বাতিল করার দাবি তুলবেন।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসন যেকোনো মূল্যে চীনের সঙ্গে সরাসরি সামরিক বা অর্থনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে চলার কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার পরিধি যত বাড়বে, দুই পরাশক্তির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সংঘাত ও উদ্বেগের ঝুঁকি ততই হ্রাস পাবে।























